থাইল্যান্ডের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস কৃষি খাত। দেশটিতে উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষিপণ্যের মধ্যে চিনি অন্যতম। তবে চলতি বছর দেশটির চিনি শিল্পে মন্দা দেখা দিয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত খরায় ২০১৯-২০ মৌসুমে আখের ফলন কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে চিনি শিল্পে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে আখের সরবরাহ কমায় দেশটির চিনি উৎপাদন কমে নয় বছরের সর্বনিম্নে নামতে পারে। খবর রয়টার্স ও ব্যাংকক পোস্ট।

থাই সুগার মিলারস করপোরেশন লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে থাইল্যান্ডে সব মিলিয়ে ১ কোটি ৫ লাখ টন চিনি উৎপাদন হতে পারে, যা আগের মৌসুমের তুলনায় ২৮ শতাংশ কম। একই সঙ্গে তা গত নয় বছরের মধ্যে কৃষিপণ্যটির সর্বনিম্ন উৎপাদন।

প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক রাংসিত হিয়ানপ্রাত জানান, দেশজুড়ে চলমান খরায় এবার মৌসুমে আখের আবাদ ও ফলন কমেছে। ফলে আখ সরবরাহ কমে দেশটিতে এ মৌসুমে চিনি উৎপাদন ব্যাপক হারে কমে যেতে পারে। এমনকি আগামী বছরেও পণ্যটির উৎপাদনে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। 

থাইল্যান্ডে প্রতি বছরের অক্টোবর থেকে চিনির বিপণন মৌসুম শুরু হয়। আগামী বিপণন মৌসুমে দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদন আরো কমে এক কোটি টনে নামতে পারে বলে জানান রাংসিত হিয়ানপ্রাত।

থাইল্যান্ড বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ চিনি রফতানিকারক দেশ। ফলে দেশটিতে পণ্যটির উৎপাদনে হ্রাস-বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। পণ্যবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, চিনি উৎপাদন কমলে দেশটি থেকে এর রফতানিও কমে যেতে পারে, যা পণ্যটির বাজারে বড় ধরনের উল্লম্ফনের কারণ হতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক জরিপে জানানো হয়েছে, থাইল্যান্ডসহ অন্যান্য দেশেও এবার চিনি উৎপাদন কমতির দিকে রয়েছে, যা পণ্যটির বৈশ্বিক উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে। ফলে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় এ বছরের শেষ নাগাদ পণ্যটির দাম ৩ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। সম্প্রতি পণ্যটির দাম বেড়ে ৩০ মাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠে যায়। 

থাই সুগার মিলারস করপোরেশন লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর থাইল্যান্ড থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টন চাল রফতানি হতে পারে। আগের বছর দেশটি মোট ১ কোটি ১০ লাখ টন চিনি রফতানি করেছিল। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে দেশটি থেকে এবার কৃষিপণ্যটির রফতানি ৪০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টন কমে যেতে পারে।

থাইল্যান্ডে সাধারণত প্রতি বছরের নভেম্বর থেকে শুষ্ক মৌসুম শুরু হয়, যা পরের বছরের এপ্রিল পর্যন্ত স্থায়ী হয়। তবে এবার দেশটির শুষ্ক মৌসুম আরো বেশি সময় দীর্ঘায়িত হতে পারে। দেশটির খাতসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার শুষ্ক মৌসুম অন্যবারের তুলনায় দুই মাস বেড়ে জুন পর্যন্ত বিরাজ করতে পারে। মধ্য, উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ দেশটির মোট ১৪টি প্রদেশকে খরাপ্রবণ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।

রাংসিত হিয়ানপ্রাত জানান, অন্যান্য বছরের মে মাস পর্যন্ত চিনি উৎপাদনকারী মিলগুলো আখ মাড়াইয়ের কাজ করে। কিন্তু চলতি মৌসুমে আখ সরবরাহ সংকটে মার্চের মধ্যেই মিলগুলোর মাড়াইয়ের কাজ বন্ধ করে দিতে হতে পারে। এদিকে খরা ও বন্যায় ২০১৯-২০ মৌসুমে ভারতের চিনি উৎপাদন ১৮ শতাংশ কমে গেছে। বিদায়ী বছরে ভারতকে টপকে বিশ্বের শীর্ষ চিনি উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হয়েছে ব্রাজিল।