যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল সরকারের নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৭ ডলার ২৫ সেন্ট। ১৩ বছর ধরেই এ মজুরির পরিমাণ অপরিবর্তিত রয়েছে। যদিও অঙ্গরাজ্যগুলো খাতভেদে বিভিন্ন ধরনের ন্যূনতম মজুরি কাঠামো দিয়ে থাকে। সর্বশেষ নেব্রাস্কা ২০২৬ সালের মধ্যে ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টাপ্রতি ১৫ ডলারে উন্নীত করার একটি উদ্যোগ পাস করেছিল। প্রাথমিকভাবে অঙ্গরাজ্যটি আগামী বছরের শুরু থেকে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ১০ ডলার ৫০ সেন্ট নির্ধারণ করেছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে নেব্রাস্কা ২৭টি অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে মিলে ওয়াশিংটন ডিসির মজুরি কাঠামোতে যুক্ত হয়েছে।

ইয়াহু ফাইন্যান্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে আলাস্কা, ইলিনয়, ডেলাওয়ার ও নিউ মেক্সিকোর মতো অঙ্গরাজ্যগুলো ন্যূনতম মজুরি বাড়াতে যাচ্ছে। নীতিনির্ধারকদের এ পদক্ষেপ শ্রমিক ও ইউনিয়নগুলোর দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফল। বিজনেস ফর এ ফেয়ার মিনিমাম ওয়েজ নামের একটি গোষ্ঠী যুক্তি দিয়েছে, ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর কারণে ব্যবসাগুলোর লোকসানের ভয় নেই। কারণ এ পদক্ষেপ ভোক্তা ব্যয় এবং কর্মীদের মনোবল বাড়িয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় বাড়াতে সহায়তা করবে।

নেব্রাস্কার পাখি সরবরাহ করা একটি দোকানের মালিক ও জোটের সদস্য ডেভ টিটারিংটন বলেন, কর্মীরা আমাদের ব্যবসায়ের জন্য সম্পদ। এজন্য মজুরির বিষয়টি ব্যবসায়ে বিনিয়োগ হিসেবে দেখা উচিত। আমাদের ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর প্রচেষ্টায় নেব্রাস্কার ৩০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়েছে।

ডেলাওয়ার, ইলিনয়, মেরিল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস, মিশিগান, মিসৌরি, নেব্রাস্কা, নিউজার্সি, নিউ মেক্সিকো, নিউইয়র্ক, রোড আইল্যান্ড ও ভার্জিনিয়া ৩১ ডিসেম্বর কিংবা ১ জানুয়ারি ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। এর আগে আলাস্কা, অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, মেইন, মিনেসোটা, মন্টানা, সাউথ ডাকোটা, ভারমন্ট ও ওয়াশিংটন ডিসি ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়েছে। অঙ্গরাজ্যগুলোয় আগামী ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মজুরি কার্যকর হবে।

তবে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াও রয়েছে বলে মনে করেন সমালোচকরা। দীর্ঘকাল ধরে তারা বলে আসছেন, বেশির ভাগ ব্যবসা ঘণ্টাপ্রতি বেশি বেতন দেয়ার পরিবর্তে ন্যূনতম মজুরির কর্মী কমানোর উপায় খুঁজে বের করে। ২০১৯ সালের কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের একটি প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে, প্রতি ঘণ্টায় জাতীয় ১৫ ডলার ন্যূনতম মজুরি ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষের বেতন বাড়িয়ে দেবে। তবে এতে প্রায় ১৩ লাখ মানুষকে চাকরি হারাতে হবে।

থিংক ট্যাংক ক্যাটো ইনস্টিটিউটের রায়ান বোর্ন বলেন, ন্যূনতম মজুরি বাড়াতে হলে ব্যবসাগুলো কর্মী কমিয়ে ব্যয় সামঞ্জস্যের চেষ্টা করে। কিন্তু এমনটা করার আরো অনেক উপায় রয়েছে। এমন অনেক প্রমাণ রয়েছে যে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর আইন কার্যকর হলে নিয়োগকর্তারা কর্মীদের অন্যান্য সুবিধা কাটছাঁট করে।

একদিকে নেব্রাস্কাসহ কয়েক ডজন অঙ্গরাজ্য আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টাপ্রতি ১৫ ডলারে উন্নীত করার আইন পাস করেছে। অন্যদিকে ২০টি অঙ্গরাজ্য এখনো ফেডারেলের ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টাপ্রতি ৭ ডলার ২৫ সেন্টে রয়ে গিয়েছে। ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি কর্মীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও ফেডারেল দ্রুতই তাদের মজুরির পরিমাণ দ্বিগুণ করবে বলে মনে হচ্ছে না। আবার ম্যাসাচুসেটস, ক্যালিফোর্নিয়া ও ওয়াশিংটন ডিসিতে আগামী বছর ন্যূনতম মজুরি ১৫ ডলার ছাড়িয়ে যাবে।