বিদায়ী বছরে ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্বর্ণ উত্তোলন করেছিল তুরস্ক। চলতি বছর দেশটিতে মূল্যবান ধাতুটির উত্তোলন আরো বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এ প্রসঙ্গে তুরস্কের গোল্ড মাইনস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট হাসান ইউসেল জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেশটির স্বর্ণ উত্তোলন আগের বছরের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। খবর আনাদোলু ও মেনাএফএন।
২০১৯ সালে তুরস্কের খনিগুলো থেকে সব মিলিয়ে ৩৪ টন স্বর্ণ উত্তোলন হয়েছিল। চলতি বছর দেশটিতে ধাতবপণ্যটির উত্তোলন বেড়ে ৪৫ টনে উন্নীত হতে পারে বলে জানিয়েছেন গোল্ড মাইনস অ্যাসোসিয়েশন।
হাসান ইউসেল জানান, স্বর্ণ উত্তোলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে তুরস্ক সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। খাতটিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে উৎসাহ প্রদানসহ পণ্যটির উত্তোলন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির, যা দ্রুতই কার্যকর করা হবে। এতে চলতি বছর খুব সহজেই তুরস্ক ৪৫ টন স্বর্ণ উত্তোলনের রেকর্ড ছুঁতে পারবে।
তুরস্কের গোল্ড মাইনস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দেশটি মোট ৩৩৮ টন স্বর্ণ উত্তোলন করেছে। দেশটির খনিগুলোয় মোট ৬ হাজার ৫০০ টন স্বর্ণ মজুদ রয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। এর মধ্যে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই ১ হাজার ৫০০ টন স্বর্ণ উত্তোলনের পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির।
তুরস্ক আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রতি বছর ১৪০ থেকে ১৬০ টন স্বর্ণ আমদানি করে। আমদানি বেশি হওয়ায় দেশটির বার্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়ায় ৭ হাজার কোটি থেকে ৮ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। স্বর্ণ উত্তোলন বাড়লে দেশটি পণ্যটির আমদানি সীমিত করে আনবে। এতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই তুরস্কের বাণিজ্য ঘাটতি ৬০ শতাংশ কমবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে হাসান ইউসেল বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বছরে ৫০ টন স্বর্ণ উত্তোলন সক্ষমতা অর্জন করতে পারে তুরস্ক। এছাড়া আগামী ১৫ বছরের মধ্যে পণ্যটির বার্ষিক উত্তোলন সক্ষমতা আরো বেড়ে ১৬০ টনে উন্নীত হওয়ার প্রত্যাশা করছে দেশটি, যা এ মুহূর্তে দেশটির বার্ষিক স্বর্ণ আমদানির সমান।
২০০১ সাল থেকে তুরস্ক স্বর্ণ উত্তোলন শুরু করে। ওই সময় দেশটি সব মিলিয়ে ১ দশমিক ৪ টন স্বর্ণ উত্তোলন করেছিল। ধীরে ধীরে দেশটিতে মূল্যবান ধাতুটির উত্তোলন বাড়তে থাকে। এ ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে এসে দেশটি ৩৩ দশমিক ৫ টন স্বর্ণ উত্তোলনে সক্ষম হয়। তবে ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে দেশটিতে পণ্যটির উত্তোলনে মন্দা দেখা দিয়েছিল। ২০১৮ সালে ফের চাঙ্গা হয়ে ওঠে খাতটি। ২০১৮ সালে দেশটি সব মিলিয়ে ২৭ দশমিক ১ টন স্বর্ণ উত্তোলন করে। এর তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে বিদায়ী বছর দেশটিতে পণ্যটির উত্তোলন দাঁড়ায় ৩৮ টন, যা এ যাবৎ কালে দেশটির সর্বোচ্চ উত্তোলন।








