যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯তম প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার শুধু রাষ্ট্রনায়কই ছিলেন না, বরং এক নিভৃতচারী চিত্রশিল্পীও। পাবলিক লাইফের ক্লান্তি দূর করতে নির্জনতার সঙ্গী হিসেবে ক্যানভাস ও রঙকে বেছে নিয়েছিলেন তিনি। জিমি কার্টারের আঁকা কিছু চিত্রকর্ম ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের নানা সামগ্রী নিলামে উঠতে যাচ্ছে।

চলতি মাসে ‘উই দ্য পিপল: আমেরিকা অ্যাট ২৫০’ শিরোনামে একটি বিশেষ নিলামের আয়োজন করছে নিউইয়র্কের বিখ্যাত অকশন হাউজ ক্রিস্টি’জ। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বছর উপলক্ষে আয়োজিত এ নিলামে কার্টার পরিবারের সংগ্রহ প্রদর্শন ও বিক্রি হবে। নিলামের জন্য এসব সামগ্রী নির্বাচন করেছেন জিমি কার্টার ও রোজালিন কার্টারের মেয়ে অ্যামি কার্টার।

8

নিলামের মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে জিমি কার্টারের আঁকা চারটি চিত্রকর্ম। এর মধ্যে রয়েছে জর্জিয়ার সেই গির্জার দৃশ্য, যেখানে তিনি খ্রিস্টধর্মে দীক্ষা নিয়েছিলেন, একটি ঝরনা ও ফলমূলের স্টিল লাইফ। ছবি তিনটির প্রতিটি ২-৮ হাজার ডলার পর্যন্ত দামে বিক্রি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নিলামে সবচেয়ে বেশি দামের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে তার ২০০৩ সালে আঁকা ‘দ্য হর্নেট’স নেস্ট’ চিত্রকর্মটি ঘিরে। ৮-১২ হাজার ডলারের সম্ভাব্য মূল্যের এ ছবিতে মার্কিন বিপ্লবের সময় ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের একটি দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। উল্লেখ্য, কার্টারের লেখা একই নামের একটি উপন্যাসের প্রচ্ছদেও চিত্রকর্মটিকে অনুসরণ করা হয়েছিল।

প্রেসিডেন্সি-পরবর্তী সমাগত আশির দশকে কার্টার নিবিড়ভাবে ছবি আঁকা শুরু করেন। তবে এর আগে মার্কিন নৌবাহিনীতে থাকাকালে কিছুটা হাত পাকিয়েছিলেন তিনি।

জিমি কার্টার শিল্পচর্চাকে নির্জনতায় সময় কাটানোর এক অপূর্ব সুযোগ মনে করতেন। তিনি বলেছিলেন, ‘একাকিত্বের এ সময়গুলো মনে হয় অন্য এক আনন্দময় জগৎ।’

নিলামে চিত্রকর্ম ছাড়াও জিমি কার্টারের বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তার নিজের হাতে তৈরি পাইন কাঠের একটি কফি টেবিল, চীনাবাদাম প্রিন্টের স্কার্ফ, হ্যাট ও টাই। এছাড়া চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তার ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রতিফলন হিসেবে সংগ্রহে থাকা চীনের চেয়ারম্যান মাও সে তুং ও ইসরায়েল-ফিলিস্তিনবিষয়ক বইগুলোও নিলামে তোলা হচ্ছে।

জিমি কার্টার ২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর ১০০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। নিলামে ওঠা সংগ্রহগুলো শুধু সাধারণ স্মারক নয়, বরং একজন শান্তিবাদী রাষ্ট্রনায়কের ব্যক্তিগত রুচি ও তার বর্ণাঢ্য জীবনের প্রতিচ্ছবি বলে উল্লেখ করেছেন বিশ্লেষকরা। —খবর দ্য আর্ট নিউজপেপার