এশিয়ার চালের বাজারে চলতি সপ্তাহে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে শস্যটির রফতানি মূল্য ব্যাপক বেড়েছে। ভিয়েতনামে ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা এবং থাইল্যান্ডে অস্থির মুদ্রাবাজার দাম বাড়াতে সহায়তা করেছে। তবে ভারতে লক্ষণীয় মাত্রায় শস্যটির দাম কমেছে। রয়টার্স।

টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো ভিয়েতনামে চালের রফতানি মূল্য বেড়েছে। এর মধ্য দিয়ে ১৬ মাসের সর্বোচ্চে উঠেছে দাম। চাহিদায় উল্লম্ফন দাম বাড়াতে সহায়তা করেছে। তবে ভারতীয় রুপির দাম কমে যাওয়ায় শীর্ষ রফতানিকারক দেশটির চালের দাম কমেছে।

চলতি সপ্তাহে ভিয়েতনামের ৫ শতাংশ ভাঙা চাল ফ্রি অন বোর্ড চুক্তিতে ৪৪৫-৪৫০ ডলারে রফতানি হয়েছে। ২০২১ সালের জুলাইয়ের পর এটি সর্বোচ্চ রফতানি মূল্য। এক সপ্তাহ আগেও দেশটি টনপ্রতি ৪৪০-৪৪৫ ডলারে এ চাল রফতানি করেছিল। হো চি মিন সিটিভিত্তিক ব্যবসায়ীরা জানান, ভিয়েতনামিজ চালের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এ কারণেই দাম বাড়তি।

তবে অন্য ব্যবসায়ীরা জানান, চীনের ক্রেতারা বর্তমানে ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের বিপরীতে পাকিস্তান এবং ভারত থেকে সস্তা দামের চাল কিনতে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। শুল্ক বিভাগের দেয়া তথ্য বলছে, নভেম্বরে ভিয়েতনামের চাল রফতানি আগের মাসের তুলনায় ২১ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে।

এদিকে থাইল্যান্ডে ৫ শতাংশ ভাঙা চালের দাম টানা ছয় সপ্তাহের মতো বেড়েছে। প্রতি টনের মূল্য দাঁড়িয়েছে টনপ্রতি ৪৪৪ ডলারে। গত সপ্তাহে দেশটি প্রতি টন রফতানি করেছিল ৪২৭-৪৪০ ডলার মূল্যে। 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে থাইল্যান্ডে ৫ শতাংশ ভাঙা চালের রফতানি চাহিদা কম। কিন্তু মুদ্রাবাজারে অস্থিরতার কারণে চালের দাম বাড়তি। ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে কৃষক ও সরকারের কাছ থেকে চাল কেনার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। এ কারণে এর চাহিদাও কমছে। তবে সরবরাহ পরিস্থিতি অপরিবর্তিতই রয়েছে। কারণ দেশটিতে নতুন চাল বাজারে প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

এদিকে মূল্যছাড় ও দুর্বল রুপি ভারতের ব্যবসায়ীদের বিদেশে বিক্রির ক্ষেত্রে মার্জিন বাড়াচ্ছে। ফলে তারা রফতানি মূল্য কমাতে উৎসাহিত হচ্ছেন। তাছাড়া বড় ক্রেতা দেশগুলোয় নিম্নমুখী চাহিদার কারণেও দেশটির চালের রফতানি মূল্য নিম্নমুখী চাপে পড়েছে।

চলতি সপ্তাহে ভারত ৫ শতাংশ ভাঙা সেদ্ধ চাল টনপ্রতি ৩৩৭-৩৭৮ ডলারে রফতানি করছে। গত সপ্তাহে রফতানি করা হয়েছিল ৩৭৫-৩৮০ ডলার মূল্যে।

দেশটির অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাডাভিত্তিক এক রফতানিকারক জানান, নতুন বছরের ছুটির দিনের কারণে প্রধান প্রধান রফতানি গন্তব্যগুলোয় চালের চাহিদা অনেক কমেছে।

প্রসঙ্গত, ৩০ নভেম্বর ভাঙা চালসহ অগ্রানিক নন-বাসমতি চালের ওপর থেকে রফতানি নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিয়েছে ভারত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রফতানি নীতিতে আনা পরিবর্তন সফলতা মুখ দেখেছে। এরই মধ্যে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। পাশাপাশি দামও স্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। আর এ কারণেই নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়া হয়েছে।

তিন মাস ধরে এসব চাল রফতানি বন্ধ ছিল। এর ফলে প্রধান প্রধান আমদানিকারক দেশগুলো বিপাকে পড়ে যায়। ফের রফতানি শুরুর ঘোষণা আসায় আমদানিকারক দেশগুলোয় স্বস্তি ফিরেছে। শস্যটির রফতানি মূল্যও কমে এসেছে।

আন্তর্জাতিক চাল বাণিজ্যে ৪০ শতাংশ বাজার হিস্যাই ভারতের। ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশটি সব মিলিয়ে ২ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার টন চাল রফতানি করে। এর আগের অর্থবছর রফতানির পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৭৭ লাখ ৮০ হাজার টন। কভিড-১৯ মহামারী শুরুর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশটি রফতানি করেছিল ৯৫ লাখ ১০ হাজার টন। অর্থাৎ গত অর্থবছর চাল রফতানি মহামারীপূর্ব পর্যায় ছাড়িয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এ বছর পণ্যটি রফতানিতে মন্দার মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশটি।

এদিকে শুল্ক কমিয়ে চাল আমদানির সময়সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ। বছরের শুরুর দিকে ভয়াবহ বন্যার কারণে চাল উৎপাদন বিপর্যয়ের মুখে পড়ায় স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।