সম্প্রতি ভোজ্যতেল উৎপাদনে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানোয় জোরারোপ করেছে ভারত। এর আওতায় পাম অয়েল আমদানি স্থগিত, বিভিন্ন তেলবীজের সর্বনিম্ন ক্রয়মূল্য বাড়ানোসহ নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটি। এতে দেশটিতে বিভিন্ন তেলবীজের আবাদ বাড়ছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যথাসময়ে সঠিক পরিমাণ মৌসুমি বৃষ্টি ও সর্বনিম্ন ক্রয়মূল্য বাড়ানোয় এবার ভারতের কৃষকরা সয়াবিনের আবাদ বাড়িয়েছে। আবাদ বাড়ায় দেশটিতে এবার তেলবীজটির উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বাড়তে পারে। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

ভারত বিশ্বের শীর্ষ ভোজ্যতেল আমদানিকরাক দেশ। দেশটি সাধারণত ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, আর্জেন্টিনা ও ইউক্রেন থেকে পাম অয়েল, সয়াবিন তেল ও সূর্যমুখী তেল আমদানি করে। সয়াবিনের উৎপাদন বাড়লে দেশটি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ভোজ্যতেলের আমদানি কমাতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এর বাইরে দেশটি পশুখাদ্য হিসেবে বাংলাদেশ, জাপান, ভিয়েতনাম ও ইরানের মতো দেশগুলোতে সয়ামিলের রফতানি বাড়তে পারবে।

ভারতের শীর্ষ ভোজ্যতেল রিফাইনারি কোম্পানি আদানি উলমারের উপপ্রধান নির্বাহী অংশু মল্লিক বলেন, এবার ভারতের কৃষকরা সয়াবিনের আবাদ বাড়িয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে দেশটিতে এবার কৃষিপণ্যটির উৎপাদন কমপক্ষে ১৫ শতাংশ বাড়বে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

ভারতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অন্যান্য বছরের তুলনায় দেশটিতে এবার দুই সপ্তাহ আগে মৌসুমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে দেশটি আগেভাগেই সয়াবিনের আবাদ শুরু হয়েছে। ১০ জুলাই পর্যন্ত দেশটির ১ কোটি ১ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিনের আবাদ হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে কৃষিপণ্যটির আবাদি জমির পরিমাণ ছিল ৫১ লাখ ৭০ হাজার হেক্টর। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে পণ্যটির আবাদি জমির পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ বা ৪৯ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর বেড়েছে। গত বছর দেশটিতে সব মিলিয়ে ৯৩ লাখ টন সয়াবিন উৎপাদন হয়েছিল।

ভারতের মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি সয়াবিন আবাদ হয়। দেশটিতে মোট উৎপাদিত সয়াবিনের শতকরা ৮০ ভাগ উৎপাদন করে এ দুটি রাষ্ট্র। দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ জুন বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত রাজ্য দুটিতে স্বাভাবিকের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা সয়াবিনের বাম্পার ফলনের জন্য অত্যন্ত সহায়ক।

এছাড়া চাহিদায় মন্দার পরও সম্প্রতি দেশটির সরকার সয়াবিনের সর্বনিম্ন ক্রয়মূল্য বাড়িয়েছে। আগের বছরের তুলনায় পণ্যটির সর্বনিম্ন ক্রয়মূল্য ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়িয়ে প্রতি ১০ কেজিতে ৩ হাজার ৮৮০ রুপি নির্ধারণ করেছে দেশটি, যা স্থানীয় কৃষকদের পণ্যটি আবাদে আগ্রহী করে তুলেছে।