আন্তর্জাতিক বাজারে নিম্নমুখী রয়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সাপ্তাহিক গড় দাম। সর্বশেষ সপ্তাহে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) গড় দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় দশমিক ৮৫ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে ব্রেন্ট ক্রুডের সাপ্তাহিক গড় দাম কমেছে দশমিক ২০ শতাংশ। খবর রয়টার্স ও সিনহুয়া।
নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে সর্বশেষ সপ্তাহে ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহ চুক্তিতে ডব্লিউটিআইয়ের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৫৮ ডলার ৫৪ সেন্টে। অন্যদিকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) মার্চে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৬৪ ডলার ৮৫ সেন্টে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সর্বশেষ সপ্তাহে ডব্লিউটিআইয়ের গড় দাম ৪ দশমিক ৩ শতাংশ ও ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ১ দশমিক ৭৪ শতাংশ কম ছিল।
গত সপ্তাহে পণ্যবাজারে বিদ্যমান পরিস্থিতি বদলাতে কয়েকটি ঘটনা প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। প্রথমত, দীর্ঘদিন ধরে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনে প্রথম পর্যায়ের চুক্তি সই করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। একই সময় কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তি অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন কংগ্রেস। এসবের কারণে জ্বালানি তেলের সাপ্তাহিক গড় দাম নিম্নমুখী হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ সপ্তাহে ইরান ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যুক্ত হয়নি। এটাও জ্বালানি তেলের সাপ্তাহিক দরপতনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।
এদিকে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজার ভারসাম্য রক্ষায় পণ্যটির উত্তোলন হ্রাস-সংক্রান্ত বৈশ্বিক চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর চিন্তাভাবনা করছে অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (ওপেক)। রাশিয়াসহ জোটের সদস্য নয়, তবে ওপেকের মিত্র; এমন দেশগুলোর চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর এ প্রস্তাবে সমর্থন রয়েছে বলে জানিয়েছে সুইস বিনিয়োগ ব্যাংক ইউবিএস এজি। ওপেক ও ওপেক প্লাস জোটের বিদ্যমান চুক্তিটির মেয়াদ চলতি বছরের মার্চে শেষ হওয়ার কথা।
ইউএসবি এজির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত বছর ওপেকভুক্ত দেশগুলো সম্মিলিতভাবে প্রতিদিন গড়ে তিন কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছিল। চলতি বছর শেষে এসব দেশে জ্বালানি পণ্যটির দৈনিক গড় উত্তোলন কমে দাঁড়াতে পারে ২ কোটি ৯৬ লাখ ব্যারেলে।
চলতি বছর বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সম্মিলিত চাহিদা প্রবৃদ্ধি দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখছে প্রতিষ্ঠানটি। বিদায়ী বছরে জ্বালানি পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা প্রবৃদ্ধি ছিল দৈনিক নয় লাখ ব্যারেল। চাহিদা প্রবৃদ্ধি ও মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক উত্তেজনা আগামীতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।









