নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর জের ধরে ক্রমভঙ্গুর অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে আর্জেন্টিনা সরকার শস্য রফতানির ওপর বাড়তি শুল্কারোপ করতে যাচ্ছে, বিশ্ব শস্যবাজারে এমন গুঞ্জন উঠেছিল। তবে এ সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে দেশটির সরকার। আর্জেন্টিনার কৃষি ও খামারবিষয়ক মন্ত্রী লুইস বাস্তেরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, শস্য রফতানির ওপর শুল্ক বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা আপাতত আর্জেন্টিনা সরকার করছে না। খবর রয়টার্স ও এগ্রিমানি।

গম, ভুট্টা ও সয়াবিন আর্জেন্টিনার প্রধান রফতানিপণ্য। করোনার ধাক্কা সামলে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এ তিনটি শস্যের রফতানি শুল্ক বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা সামনে এসেছিল। তবে দেশটির কৃষিমন্ত্রীর সাফ জবাবে জানা গেল, আপাতত শস্যের রফতানি শুল্ক বাড়ানোর পথে হাঁটবে না আর্জেন্টিনা সরকার।

রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে কৃষি খাতে করোনার চ্যালেঞ্জ নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনায় এ বিষয়ে তিনি বলেন, এ মুহূর্তে আমাদের কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর প্রতি জোর দিতে হবে। এজন্য শস্যের রফতানি শুল্ক বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই। বরং জরুরি ভিত্তিতে শস্যের আবাদ এলাকা ও আবাদ বাড়াতে কাজ শুরু করতে হবে। শস্য উৎপাদনে বাড়াতে হবে বিনিয়োগ। তাহলে আমাদের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা করোনার আঘাত থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাবেন। গতি ফিরবে চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা সামগ্রিক অর্থনীতির।

বর্তমানে আর্জেন্টিনা থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে গম রফতানিতে ১২ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। ভুট্টা রফতানিতেও একই হারে শুল্কারোপ করে রেখেছে দেশটি। অন্যদিকে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন ও সয়ামিল রফতানিতে গুনতে হয় ৩৩ শতাংশ শুল্ক।

করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলে অর্থনীতির গতি ফেরাতে চলতি বছর কৃষি খাত থেকে রাজস্বের পরিমাণ ১২ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে আর্জেন্টিনা সরকার। এর অংশ হিসেবে শস্যের রফতানি শুল্ক বাড়ানোর আলোচনা সামনে এসেছিল।

ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছিলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জের ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে আর্জেন্টিনার শস্য রফতানি কমে যেতে পারে। বাড়তে পারে গম, ভুট্টাসহ বিভিন্ন শস্যের দাম। তবে দেশটির সরকার সাফ জানিয়ে দিল, রফতানি শুল্ক বাড়িয়ে নয়, বরং উৎপাদন বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে বাড়তি রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা করা হবে।