কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ও এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তিটির গতিবিধি তদারক করতে ও যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ‘এআই ফোর্স’ ও একজন বিশেষ এআই প্রধান নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত শনিবার ট্রাম্প জানান, তিনি প্রথম মেয়াদে যেমন ‘স্পেস ফোর্স’ গঠন করেছিলেন, ঠিক তেমনি এবার ‘এআই ফোর্স’ গঠন করবেন। তবে উদ্যোগটির বিশদ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি এখনো বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেননি।

ট্রাম্প বলেন, ‘‌এআই খাতের তদারকে কেবল অতি উচ্চ বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (হাই আইকিউ) ব্যক্তিদেরই নিয়োগ দেয়া হবে।’

প্রযুক্তিটির অনিয়ন্ত্রিত বিকাশ মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হতে পারে বলে সম্প্রতি সিলিকন ভ্যালির অনেক বিশেষজ্ঞ ও শীর্ষ কর্মকর্তা সতর্কবার্তা দিয়েছেন। স্যাম অল্টম্যান, ইলোন মাস্ক ও অ্যানথ্রোপিকের দারিও আমোদেইয়ের মতো এআই খাতের প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও প্রযুক্তির গতি কিছুটা ধীর করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

তবে এ উদ্বেগকে সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি এআই-সংক্রান্ত ভয় ও উদ্বেগকে একটি ‘হ্যাক্স’ বা ভুয়া প্রচার বলে অভিহিত করেন।

ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেন, তার প্রশাসন কোনোভাবেই এ উদীয়মান শিল্পের অগ্রগতি ব্যাহত বা বাধাগ্রস্ত করবে না। তিনি এআইকে ‘পরবর্তী শিল্পবিপ্লব’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন, ইন্টারনেটের চেয়েও বড় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের মোট জিডিপির প্রায় ২৫ শতাংশ দখল করতে পারে এআই। মূলত চীনের সঙ্গে প্রযুক্তির লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই ট্রাম্প এআই খাতের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের বিরোধী বলে মনে করেন অনেকে।

ট্রাম্প দাবি করেন, এআই প্রযুক্তিতে বর্তমানে চীন ও বিশ্ববাজারের চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে রয়েছে। দেশটি এ শীর্ষ অবস্থান বজায় রাখতে চায়।

তার নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির অনেক শীর্ষ নেতা ও ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এআই সুরক্ষায় কঠোর আইন এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার জোর দাবি জানিয়ে আসছেন।