বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে চীনা করোনাভাইরাস। যত দিন যাচ্ছে, এর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভাইরাসটির বিরুদ্ধে উদ্যোগ নিতে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটির এ ঘোষণার তাত্ক্ষণিক প্রভাব পড়েছে জ্বালানি পণ্যের বাজারে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম সাময়িক বেড়েছে। খবর রয়টার্স ও মার্কেট ওয়াচ।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সর্বশেষ কার্যদিবসে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়িয়েছে ৫৯ ডলার ৪৫ সেন্ট, যা আগের দিনের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার ১৬ সেন্ট বেশি। এর আগের কার্যদিবসে জ্বালানি পণ্যটির দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছিল।
এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) বিক্রি হয়েছে ৫৩ ডলার ২০ সেন্টে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ব্যারেলে ১ ডলার শূন্য ৬ সেন্ট বেশি। আগের কার্যদিবসে জ্বালানি পণ্যটির দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ কমেছিল।
গত বছরের শেষের দিকে চীনের মধ্যভাগের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম ছড়িয়ে পড়ে রহস্যময় করোনাভাইরাস। এরপর চীনজুড়ে বিস্তার ঘটে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের। দেশটিতে এখন পর্যন্ত রহস্যময় ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২১৩ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় সাত হাজার মানুষ। চীন ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, সৌদি আরব, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, নেপালসহ কয়েকটি দেশে এ ভাইরাসের অস্তিত্বের খবর মিলেছে।
করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বৃহস্পতিবার এক জরুরি বৈঠক শেষে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে ডব্লিউএইচও। ফলে ভ্রমণ ও বাণিজ্যে বর্তমানের তুলনায় আরো শ্লথতা নেমে আসতে পারে। এ সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে রাখতে পারে।
সিএমসি মার্কেটসের বিশ্লেষক মার্গারেট ইয়াং বলেন, স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম সাময়িক বাড়িয়েছে ঠিকই। তবে করোনাভাইরাস আতঙ্কে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্য শ্লথ হয়ে এলে চাহিদা কমার আশঙ্কা থেকে জ্বালানি পণ্যটির দাম দীর্ঘমেয়াদের জন্য আরো কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।








