পানামার সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে জানিয়েছেন, হংকংভিত্তিক সিকে হাচিসন হোল্ডিংসের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকা পানামা খালের দুই প্রান্তের বন্দর পরিচালনার চুক্তি অসাংবিধানিক। এতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথটিতে চীনের প্রভাব ঠেকানোর মার্কিন প্রচেষ্টা নতুন সুবিধা পেতে পারে ধারণা বিশ্লেষকদের। খবর এপি।
পানামার কম্পট্রোলারের এক নিরীক্ষার পর এ রায় দিলেন আদালত। যেখানে ২০২১ সালে ২৫ বছরের জন্য চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়েছিল।
পানামা খালের ওপর চীনের প্রভাব ঠেকানোকে পশ্চিম গোলার্ধে নিজেদের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে মার্কো রুবিওর প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্যও ছিল পানামা।
পানামা সরকার ও পানামা ক্যানাল অথরিটি বারবার দাবি করে এসেছে, খাল পরিচালনার ওপর চীনের কোনো প্রভাব নেই। কিন্তু রুবিও বলে আসছিলেন, বন্দর পরিচালনাকে জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি বলেছেন, ‘পানামা খাল মার্কিন নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে দেয়া উচিত।’
তবে বৃহস্পতিবার দেয়া আদালতের সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বন্দরগুলোর ভবিষ্যৎ বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা দেয়া হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক এডউইন কাব্রেরা জানান, পরবর্তী প্রক্রিয়াগত ধাপ হলো আদালতের সিদ্ধান্তসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো। এরপর বন্দরগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়টি পানামার নির্বাহী বিভাগের কাছে যাবে। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে অভিজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আমার ধারণা, বন্দরগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হবে না।’
পানামার বন্দরসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে থাকা বন্দর ব্যবসার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ গত বছর একটি আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের কাছে বিক্রির ঘোষণা দেয় সিকে হাচিসন। এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকরক। তবে চীন সরকারের আপত্তির কারণে পরবর্তী সময়ে সেই চুক্তি স্থবির হয়ে পড়ে।
এরই মধ্যে পানামার কম্পট্রোলার পানামা পোর্টস কোম্পানির কনসেশন নিয়ে নিরীক্ষা শুরু করেন। সিকে হাচিসন ১৯৯৭ সাল থেকে পানামা খালের দুই পাড়ের বন্দর পরিচালনার দায়িত্বে ছিল। পরে ২০২১ সালে চুক্তির মেয়াদ আরো ২৫ বছরের জন্য নবায়ন করা হয়।










