শ্রীলংকার চা শিল্পের ১৫০ বছরের গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে সিলন চা বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কয়েক বছর ধরে গৌরবের এ ইতিহাসে ভাটা পড়েছে। একের পর এক দেশ শ্রীলংকা থেকে রফতানি হওয়া চায়ের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। চালান ফেরত পাঠিয়েছে কয়েকটি দেশ। এ পরিস্থিতিতে চায়ের বৈশ্বিক রফতানি বাজারে রীতিমতো ইমেজ সংকটে পড়েছে শ্রীলংকা। পরিস্থিতি উত্তরণে চা শিল্পের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশগ্রহণে ১০ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দেশটি। খবর ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।
শ্রীলংকান টি বোর্ডের চেয়ারম্যান জায়ামপাথে মল্লিগোদা বলেন, চা শিল্পের ম্রিয়মাণ সুনাম ফেরাতে ১০ বছরের কর্মপরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। ‘রোডম্যাপ সিলন টি ২০৩০’ নামের এ পরিকল্পনায় শ্রীলংকা সরকারের পাশাপাশি চা শিল্পসংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। এ কর্মপরিকল্পনার আওতায় চা শিল্পকে সম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করা হবে। বিদ্যমান নীতিগুলোকে আরো কার্যকর করা হবে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে সিলন চায়ের সুনাম পুনরুদ্ধার করাই মূল লক্ষ্য।
প্রতি বছর শ্রীলংকায় ৩০ কোটি কেজির বেশি চা উৎপাদন হয়, যা বৈশ্বিক চা উৎপাদনের ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। চা রফতানি থেকে দেশটি প্রতি বছর প্রায় ১৬০ কোটি ডলার আয় করে। তবে চায়ের উৎপাদন হ্রাসের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে শ্রীলংকা। জায়ামপাথে মল্লিগোদা জানান, এক দশক আগেও বিশ্বে উৎপাদিত মোট চায়ের ৮ শতাংশ শ্রীলংকার দখলে ছিল। এখন তা সাড়ে ৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। রফতানি খাতে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ক্ষেত্রে এটাও বড় একটি কারণ। এ কারণে আগামী ১০ বছরে চা উৎপাদন বাড়ানো কর্মপরিকল্পনার অন্যতম একটি লক্ষ্য।
একই সঙ্গে উৎপাদিত চায়ের মান ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় নজরদারি জোরদার করা, সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো, বাগান ও কারখানায় আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ানো, বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ডিং জোরদার করা, বিজ্ঞাপন প্রদানসহ নানা উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও তিনি জানান।









