২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ইস্পাত রফতানির নির্ধারিত কোটা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজার পরিস্থিতির অবনতি ও যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইস্পাত পণ্যের ওপর আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কের কারণে ধাতুটির রফতানি কমেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থা সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে। বিজনেস কোরিয়া।

তথ্যমতে, বিদায়ী বছরের জানুয়ারি-নভেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পানিগুলো সব মিলিয়ে ২৩ লাখ টন ইস্পাত পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করেছে। বছর শেষে ধাতব পণ্যটির রফতানি ২৫ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস করেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা, যা গত নয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন রফতানি। একই সঙ্গে তা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশটির ইস্পাত রফতানির নির্ধারিত কোটার চেয়ে কম।

২০১৮ সালে মার্কিন সরকার ১৯৬২ সালের ট্রেড এক্সটেনশন অ্যাক্টের ২৩২ ধারার আওতায় ইস্পাত আমদানিতে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। তবে দক্ষিণ কোরীয় সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি করে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী দেশটি ২০১৫-১৭ সালের মধ্যে বার্ষিক গড় রফতানির (৩৮ লাখ ৩০ হাজার টন) ৭০ শতাংশ পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রফতানি করবে। গত বছর বার্ষিক গড় রফতানির ৬৫ শতাংশ পূরণে সক্ষম হয়েছে দেশটি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটির কোম্পানিগুলো অভ্যন্তরীণ বাজারে ইস্পাতের দরপতনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্যটির রফতানিতে সমন্বয় করেছে। দেশটির হানা ফিন্যান্সিয়াল ইনভেস্টমেন্টর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতি ৯৭ কেজি হট-রোলড স্টিলের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৫৮০ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৩ শতাংশ কম। এছাড়া আলাদা আলাদা ইস্পাত পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং নীতিও রফতানি কমাতে প্রভাব ফেলেছে।