দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে সূচকের পাশাপাশি লেনদেনেও ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গেছে। আলোচ্য সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জটির গড় লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ। গত সপ্তাহে পুঁজিবাজারে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের শেয়ারে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ৮৭ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৯৯৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৪ হাজার ৯১১ পয়েন্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৪৫ দশমিক ৫২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯১৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৮৬৯ পয়েন্ট। ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গত সপ্তাহে ৫ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল ১ হাজার ৬ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে মোট ৩৮৯টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৭৬টির, কমেছে ১৭৭টির ও দর অপরিবর্তিত ছিল ৩৬টির। আর লেনদেন হয়নি ২৪টির। গত সপ্তাহে সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে ইসলামী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্র্যাক ব্যাংক ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার।
ডিএসইতে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে দৈনিক গড়ে ৪৭৪ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহের চার কার্যদিবসে যা ছিল ৩৫৪ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে এক্সচেঞ্জটির দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ৩৩ দশমিক ৯০ শতাংশ।
খাতভিত্তিক লেনদেনে গত সপ্তাহে ব্যাংক খাতের শেয়ারের আধিপত্য ছিল। লেনদেনচিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৯ দশমিক ৫০ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ব্যাংক খাত। ১৩ দশমিক ৯০ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বস্ত্র খাত। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ওষুধ ও রসায়ন খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ১৩ শতাংশ। সাধারণ বীমা খাত ৮ শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে তালিকার চতুর্থ অবস্থানে ছিল। আর পঞ্চম অবস্থানে থাকা খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৭ দশমিক ৭ শতাংশ।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে সাতটি খাত বাদে বাকি সব খাতের শেয়ারেই ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে ব্যাংক খাতে। এছাড়া সাধারণ বীমা খাতে ৩ দশমিক ৩০, সিরামিক খাতে ৩ শতাংশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ২ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং সেবা ও আবাসন খাতে ২ দশমিক ৩০ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন ছিল। অন্যদিকে গত সপ্তাহে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি ৫ দশমিক ৯০ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে ভ্রমণ ও অবকাশ খাতে। এছাড়া কাগজ ও মুদ্রণ খাতে ৩ দশমিক ২০ শতাংশ এবং পাট খাতে ২ দশমিক ২০ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই গত সপ্তাহে ২ দশমিক ২০ শতাংশ বেড়ে ১৩ হাজার ৯৯৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৩ হাজার ৬৯২ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে আড়াই শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৬৫৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৮ হাজার ৪৪১ পয়েন্ট।
সিএসইতে গত সপ্তাহে ১৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। আলোচ্য সপ্তাহে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৭২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৪৪টির, কমেছে ১০৬টির আর দর অপরিবর্তিত ছিল ২২টির।








