সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ বেড়েই চলেছে। আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে গতি না আসায় ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারছে না বন্দরটি। ভোমরা শুল্ক স্টেশনের তথ্য বলছে, সর্বশেষ গত মাসেই রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ঘাটতি হয়েছে ২৮ শতাংশ। আর চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) ভোমরা বন্দরে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫৮ কোটি টাকার বেশি।

বন্দরসংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থবছরের শুরু থেকেই ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা চলছে। পাশাপাশি বৈশিক মহামারী করোনার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকটও কাটছে না। এতে বন্দরটি রাজস্ব ঘাটতি থেকে বের হতে পারছে না।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখার তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ভোমরা বন্দর থেকে ৮৫০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর বিপরীতে বন্দরটি থেকে আদায় হয় ৫৯২ কোটি ৩ লাখ টাকা। সেই হিসেবে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকায়।

মাসভিত্তিক রাজস্ব আদায়ের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম মাস অর্থাৎ জুলাইয়ে আদায় হয়েছে ৪৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এছাড়া আগস্টে ৫৭ কোটি ৬৩ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৭৩ কোটি ৩০ লাখ, অক্টোবরে ৭১ কোটি ২৮ লাখ, নভেম্বরে ৭৪ কোটি ২৮ লাখ, ৫৫ কোটি ২৭ লাখ, জানুয়ারিতে ৫৯ কোটি ২০ লাখ, ফেব্রুয়ারিতে ৬২ কোটি ৪১ লাখ এবং মার্চে ৯৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে।

এর আগে গত ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে রাজস্ব আয় হয়েছিল ৬৪০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, যা চলতি অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকার বেশি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে অনেকটা বৈষম্যের শিকার হন তারা। চাইলেও সব ধরনের পণ্য আমদানি করা যায় না। যে কারণে অনেকেই এ বন্দর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। আবার সম্ভাবনা থাকলেও বন্দরটির সক্ষমতা সেভাবে গড়ে উঠছে না। এতেই বন্দরের আমদানি-রফতানি বা বাণিজ্য কার্যক্রম কমে যাচ্ছে। যার কারণে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করা যাচ্ছে না। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, করোনার কারণে বাণিজ্যের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল, সেটি থেকে এখনো বের হতে পারেনি বন্দর। তবে ঘাটতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ভোমরা সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক শেখ এজাজ আহমেদ স্বপনের মতে, রাজস্ব ঘাটতির অনেক কারণের মধ্যে অন্যতম হলো বন্দর ব্যবহারকারীদের সব ধরনের পণ্য আমদানি করতে না দেয়া। পাশাপাশি বন্দরের সক্ষমতাও কম। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, দেশের অন্য যেকোনো বন্দরের চেয়ে ভোমরা বন্দর অনেক সম্ভাবনাময়। অথচ এ বন্দরে রয়েছে পণ্য আমদানিতে নানা বৈষম্য। ব্যবসায়ীদের সব পণ্য আমদানি করতে দেয়া হয় না। তাছাড়া বন্দরের সক্ষমতা কম থাকার কারণে ভারী পণ্য আমদানি করতে পারেন না ব্যবসায়ীরা। এজন্য সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমতি দেয়ার পাশাপাশি বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।

তবে ঘাটতি কমানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বরত কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার আমীর মামুন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, পণ্য আমদানি-রফতানির ওপর নির্ভর করে রাজস্ব বেশি-কম হয়। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে মূলত এ বন্দরের ব্যবসা-বাণিজ্য মন্দা যাচ্ছে। তার ওপর রয়েছে মহামারী করোনাসৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট। ফলে কোনোভাবেই রাজস্ব ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা যাচ্ছে না। তার পরও ঘাটতি যতটা কমানো যায়, তার চেষ্টা করা হচ্ছে।