চীনের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানিকারক শীর্ষ কোম্পানি চায়না ন্যাশনাল অফশোর অয়েল করপোরেশন (সিএনওওসি)। সম্প্রতি কমপক্ষে তিনটি এলএনজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোম্পানিটি আমদানি চুক্তি স্থগিত করেছে। চীনজুড়ে ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশটিতে পণ্যটির চাহিদা কমেছে, যা কোম্পানিটির এসব চুক্তি স্থগিতের পেছনে প্রধান প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর রয়টার্স।
চীনের সংশ্লিষ্ট খাতের দুটি সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির মোট এলএনজি আমদানি টার্মিনালের প্রায় অর্ধেক পরিচালনা করে সিএনওওসি। প্রতিষ্ঠানটি ধর্মঘট বা প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিশেষ পরিস্থিতিতে অন্যান্য কোম্পানির সঙ্গে করা চুক্তি স্থগিতের ক্ষমতা রাখে। সিএনওওসিতে সবচেয়ে বেশি এলএনজি সরবরাহ করে অ্যাংলো-ডাচ জ্বালানি কোম্পানি রয়্যাল ডাচ শেল, ফ্রান্সের টোটাল, অস্ট্রেলিয়ার উডসাইড পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড কাতারগ্যাসের মতো কোম্পানিগুলো।
চীন বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ এলএনজি আমদানিকারক দেশ। করোনাভাইরাসের প্রকোপে দেশটিতে এলএনজিসহ সব ধরনের জ্বালানি পণ্যের স্পট বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। পণ্যটির রফতানিকারকরা জানিয়েছেন, তারা দেশটিতে চালানকৃত কার্গো ফিরিয়ে নেয়ার আতঙ্কে রয়েছেন। এছাড়া চীনের উদ্দেশে নির্ধারিত কার্গোগুলোর জন্য তাদের নতুন বাজারের খোঁজ করতে হচ্ছে।
বিষয়টির সংবেদনশীলতা বিবেচনায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এলএনজি রফতানিকারক জানান, চাহিদা ব্যাপক হারে হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও চীনে তারা কার্গো পাঠিয়েছিলেন। তবে বর্তমানে বিকল্প বাজার খোঁজার চেষ্টা করছেন তারা। এদিকে চীনে জ্বালানি পণ্যটির চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় এশিয়াজুড়ে এর প্রভাব পড়েছে। সম্প্রতি এশিয়ার বাজারে পণ্যটির মূল্য কমে ১০ বছরের সর্বনিম্নে ঠেকেছে।
এলএনজির সঙ্গে চীনের জ্বালানি তেল খাতেও মন্দা দেখা দিয়েছে। চীনের সিনোপেক করপোরেশন এশিয়ার বৃহত্তম জ্বালানি তেল পরিশোধন কেন্দ্র। কোম্পানিটি চলতি মাসে জ্বালানি তেলের পরিশোধন দৈনিক গড়ে ৬ লাখ ব্যারেল কমিয়ে আনতে পারে, যা আগের মাসের তুলনায় ১২ শতাংশ কম এবং গত এক দশকের সর্বনিম্ন। কোম্পানিটি পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি স্থগিত করে দিয়েছে। এছাড়া প্রাক-ক্রয়াদেশের কমপক্ষে পাঁচটি কার্গো পুনর্বিক্রির চেষ্টা করছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে জ্বালানি তেলের চাহিদা দৈনিক গড়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা, যার প্রভাব পড়বে পণ্যটির পরিশোধন কার্যক্রমে।









