চীন বিশ্বের শীর্ষ সয়াবিন ক্রেতা দেশ। একই সঙ্গে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত সয়াবিনের প্রধান আমদানিকারক। নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে চীনের বাণিজ্য এখন টালমাটাল। অন্যান্য পণ্যের মতো দেশটিতে সয়াবিনের চাহিদা কমেছে, এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন খাতে। সম্প্রতি বেইজিংয়ের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন রফতানি পাঁচ মাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমেছে। খবর রয়টার্স।  

মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) সর্বশেষ সাপ্তাহিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০ জানুয়ারি শেষ হওয়া সপ্তাহে চীনে সব মিলিয়ে ৩১ হাজার ৫২৩ টন সয়াবিন রফতানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা গত ৫ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহের পর সর্বনিম্ন। ওই সময়ে প্রাক-বুকিং চুক্তি বাতিল হওয়ার জেরে চীনে সাকল্যে ২ হাজার ৭২৭ টন সয়াবিন রফতানি করেছিল দেশটি।

ইউএসডিএ কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে জানিয়েছে, বিভিন্ন দেশ এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মোট ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮০০ টন সয়াবিনের বিক্রি চুক্তি বাতিল করেছে। তবে পণ্যবাজার বিশ্লেষকরা জানান, নাম না জানা বিভিন্ন দেশ বলতে আসলে চীনকে বোঝানো হয়েছে।

মার্কিন কৃষি বিভাগের সেক্রেটারি সনি পারদু জানান, এতে কোনো সন্দেহ নেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে চীনাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে। শ্লথ হয়ে আসতে পারে দেশটির অর্থনীতি। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সাম্প্রতিক কৃষিপণ্য ক্রয়সংক্রান্ত চুক্তিটির কার্যকারিতা নিয়ে আরো বেশি সহনশীল হতে হবে।

নভেল করোনাভাইরাস এমন সময়ে ছড়িয়েছে, যখন চীনে চান্দ্র নববর্ষের ছুটি চলছিল। এদিকে ভাইরাসটির প্রকোপ মহামারী আকার ধারণ করায় ছুটির মেয়াদ বাড়িয়েছে দেশটির প্রশাসন। চাহিদা বা ক্রয়ক্ষমতার পাশাপাশি এ ছুটিও চীনে কৃষিপণ্যটির রফতানি কমার পেছনে অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।