গ্যাসোলিন, ডিজেল ও উড়োজাহাজের জ্বালানির সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে রাশিয়ার মালিকানাধীন তিনটি তেল পরিশোধনাগারের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে জার্মান সরকার। দেশটির অর্থনীতি মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক ঘোষণায় জানায় যে, জার্মানিতে কর্মরত রাশিয়ার তেল জায়ান্ট রোজনেফটের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের সাময়িক নিয়ন্ত্রণ নেয়া হয়েছে। রোজনেফট ডয়চল্যান্ড এবং আরএন রিফাইরিং অ্যান্ড মার্কেটিং জার্মানির জ্বালানি তেল পরিশোধন সক্ষমতার ১২ শতাংশের জোগান দেয়। খবর বিবিসি।

এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলছে, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সরবরাহের ওপর ওঠা হুমকির জবাব দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রোজনেফটের তিনটি পরিশোধনাগারের দায়িত্বই জার্মান সরকারের হাতে ন্যস্ত হলো।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়া আক্রমণ শুরু করলে গোটা ইউরোপে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে এক ধরনের বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে রাশিয়ার ওপর দেয়া নানা নিষেধাজ্ঞা এ সংকটকে আরো জটিল করে।

জার্মানির ফেডারেল নেটওয়ার্ক এজেন্সি মূলত দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এটি বার্লিনের কাছের পরিশোধনাগার পিসিকে শিউইড, হাইডেলবার্গের কাছের মিরো ও বাভারিয়ার বায়েরনইল নিয়ন্ত্রণ করে।

এর মধ্যে শিইউড পরিশোধনাগার থেকে জার্মানির চাহিদার সবচেয়ে বড় অংশ পূরণ হয়। এ পরিশোধনাগারে একদিনে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি পরিশোধিত হয়। বার্লিনের চাহিদার মোট জ্বালানির ৯০ শতাংশই এখান থেকে সরবরাহ করা হয়।

গত মে মাসে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্মত হয়েছিল যে রাশিয়ার ৯০ শতাংশ তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল। যাতে ইউক্রেনের ওপর হামলার জন্য রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যায়। রাশিয়া ড্রুজবা পাইপলাইন দিয়ে শিউইড রিফাইনারিতে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করে। জার্মানির অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, অন্য কোনো পাইপলাইন ব্যবহার করে তেল পরিবহন করা যায় কিনা সেদিকে কাজ করা হচ্ছে।

জার্মানির অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে কিছু হুমকির কারণে এ পদক্ষেপ নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছিল। এর আগে গত এপ্রিলেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়। সে সময় রাশিয়ার গ্যাস জায়ান্ট গ্যাজপ্রমের নিয়ন্ত্রণ নেয় জার্মানি।

শুক্রবার জার্মান সরকার ব্র্যান্ডেনবার্গের পিসিকে শিউইড রিফাইনারির নিয়ন্ত্রণ দেয় দেশের জাতীয় জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে। একই সঙ্গে দেশের দক্ষিণের আরো দুটি পরিশোধনাগার নিয়ন্ত্রণেরও দায়িত্ব দেয়া হয়। অর্থ মন্ত্রণালয় বলছে, এ পদক্ষেপের প্রয়োজন ছিল। কারণ জটিল পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা এবং গ্রাহকরা রোজনেফটের সঙ্গে কাজ করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন, যা পরিশোধনাগারগুলোর কাজ চালিয়ে নেয়ার ওপর এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করে।

শিউইড রিফাইনারির সাড়ে ৩৭ শতাংশের মালিকানা শেলের। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এ নিয়ন্ত্রণের কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। কোম্পানির এক মুখপাত্র বলেন, শেল তার নিজের কাছে থাকা শেয়ার দিয়েই ব্যবসা চালিয়ে যাবে।