মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ক্রমে বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পণ্যের বাজারে। এছাড়া ভারতে এলএনজির (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) চাহিদা চাঙ্গা রয়েছে। সব মিলিয়ে এশিয়ার বাজারে ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহ চুক্তিতে জ্বালানি পণ্যটির স্পটমূল্য ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। খবর রয়টার্স।

চলতি সপ্তাহে উত্তর-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (প্রতি ঘনফুটে ১ হাজার ৩৬ ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট) এলএনজির দাম দাঁড়াতে পারে ৫ ডলার ৩০ সেন্ট, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৫ সেন্ট বেশি।

মার্চে সরবরাহকৃত চুক্তিতে একই পরিমাণ এলএনজির দাম কিছুটা কমে ৪ ডলার ৭৫ সেন্ট ছুঁতে পারে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলএনজির দাম বাড়াতে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। ইরানি কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডের জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সংকট নতুন মোড় নিয়েছে। এছাড়া ইরানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পণ্য পরিবহন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরানের সীমান্তঘেঁষে অবস্থিত এ প্রণালিকে জ্বালানি বাণিজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট ধরা হয়। এ রুটে পুনরায় হামলা হলে কিংবা জ্বালানিবাহী কার্গো চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে বিকল্প পথের সন্ধান করতে হবে কার্গোগুলোকে। এতে জ্বালানি পণ্যের পরিবহন ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে। এ আশঙ্কার প্রভাব পড়েছে এলএনজির বাজারে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভারত ও চীনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা প্রবৃদ্ধি। বিদায়ী বছরের ডিসেম্বরে জাপানকে টপকে চীন বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি আমদানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। রিভিনিটিভ একনের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে টানা দুই মাস বিশ্বের শীর্ষ এলএনজি আমদানিকারক দেশ হয়েছে চীন।

তবে খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শীত মৌসুম শেষে চীনসহ অন্যান্য দেশে এলএনজির চাহিদা কমবে। এতে আমদানি কমে এশিয়ার বাজারে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট এলএনজির দাম ৫ ডলারের নিচে নামতে পারে।