কতভাবে মূল্যবান হয়ে ওঠে জিনিস। কখনো উপাদানের জন্য, কখনো বিখ্যাত মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের খাতিরে, আবার কখনো ঐতিহাসিকতা বিবেচনায়। নর্থ ক্যারোলাইনায় ঠিক তৃতীয়টিই ঘটল সম্প্রতি। ১৮৫৭ সালের জাহাজ দুর্ঘটনায় ডুবে যাওয়া ট্রাংকে মিলেছিল প্যান্টটি। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত সবচেয়ে পুরনো জিন্সের নিদর্শন এটি। নিলামে তা বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ডলারে।

সাদা প্যান্টটি একজন খনি শ্রমিকের বলে অনুমিত। তবে এই প্যান্টের সঙ্গে আধুনিক ব্লু জিন্সের জনক লেভি স্ট্রাউস অ্যান্ড কোম্পানির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিনা সে বিষয়ে মতানৈক্য রয়েছে। সানফ্রান্সিসকোভিত্তিক কোম্পানিটি আনুষ্ঠানিকভাবে জিন্সের প্যান্ট প্রস্তুত করে ১৮৭৩ সালে। তবে তার আগে শুকনো পণ্য ও অন্যান্য প্যান্টও প্রস্তুত করেছে। ফলে কেউ কেউ প্রাপ্ত জিন্সের সঙ্গে কোম্পানিটিকে সংযুক্ত করতে চান। যদিও ঐতিহাসিক ট্র্যাসি প্যানেক এ দাবিকে ‘নিছক ধারণাপ্রসূত’ বলে উড়িয়ে দিতে চান। বার্তা সংস্থা এপিকে পাঠানো ই-মেইলে তিনি জানান, ‘প্যান্টটি লেভির নয়, এমনকি আমি মনে করি এটা কোনো খনি শ্রমিকের প্যান্ট নয়।’

কে তৈরি করেছে তা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে। কিন্তু একটি ব্যাপারে সবাই একমত। প্যান্টটি ১৮৫৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ঘূর্ণিঝড়ের আগেকার। কারণ সে সময়ই সানফ্রান্সিসকো থেকে পানামা হয়ে নিউইয়র্কে যাত্রা করা জাহাজ এসএস সেন্ট্রাল আমেরিকা ডুবে যায়। সে হিসাবে এর চেয়ে পুরনো কোনো জিন্সের নিদর্শন এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ক্যালিফোর্নিয়া গোল্ড মার্কেটিংয়ের ব্যবস্থাপনা সহযোগী ডোয়াইট ম্যানলি দাবি করেন, ‘ওই প্যান্ট যেন চাঁদে প্রথম পতাকার মতো একটা ঐতিহাসিক সময়ের স্বাক্ষর’।

উৎপাদন প্রণালি, উপাদান ও প্রক্রিয়ায় লেভির স্ট্রাউস অ্যান্ড কোম্পানির সঙ্গে মিল নেই। তার পরও কেউ মনে করেন, প্যান্টটি লেভির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ কোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের। নিলাম কোম্পানির সভাপতি হোলাবার্ড দাবি করেন, ১৮৫৭-৫৮ সময়কালে স্ট্রাউসই ছিল একমাত্র পাইকারি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, যারা ক্যালিফোর্নিয়া থেকে পণ্যের জাহাজ পাঠাত। এসব পণ্যের মধ্যে বিভিন্ন ধরন ও সাইজের কাপড় থাকত।