ইন্দোনেশিয়ার মূল্যস্ফীতির চাপ আরো ধীর হয়েছে। নভেম্বরে দেশটির মূল্যস্ফীতি বছরওয়ারি ৫ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়েছে। এ হার অক্টোবরের ৫ দশমিক ৭১ শতাংশের চেয়ে কম। মূল্যস্ফীতির চাপ ধীর হলেও তা এখনো দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে। এ নিয়ে টানা ষষ্ঠ মাসের মতো দেশটির মূল্যস্ফীতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রয়েছে। খবর রয়টার্স।
নভেম্বরের মূল্যস্ফীতি অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের চেয়েও কম বেড়েছে। রয়টার্সের পূর্বাভাসে বিশ্লেষকরা ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ব্যাংক ইন্দোনেশিয়ার মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা হলো ২ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে।
বাজারে দামের অস্থিরতার মধ্যে থাকা বছরওয়ারি কোর মূল্যস্ফীতি গত মাসে ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এ হার অক্টোবরে ছিল ৩ দশমিক ৩১ শতাংশ। অর্থনীতিবিদরা ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ কোর মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
গত সেপ্টেম্বর জ্বালানির মূল্য সমন্বয়ের পর স্ট্যাটিস্টিকস ইন্দোনেশিয়ার উপ-প্রধান সেটিয়ান্তো সাংবাদিকদের জানান, জ্বালানি তেলের দাম, উড়োজাহাজ ভাড়া ও শহুরে পরিবহন খরচ মূল্যস্ফীতিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। এদিকে ধীরগতিতে হলেও ইন্দোনেশিয়ার প্রধান খাদ্য চালের দাম গত মাসেও বেড়েছে।
ব্যাংক ইন্দোনেশিয়ার গভর্নর পেরি ওয়ারজিও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পরবর্তী বছরও সুদহার বৃদ্ধির পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে। আমরা আগেই মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা করে তা নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজছিলাম। তবে মূল্যস্ফীতির চাপ এখনো লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রয়ে গিয়েছে। ২০২৩ সালের প্রথমার্ধের মধ্যেই এটিকে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় ফিরিয়ে আনা হবে।’
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি বছর সুদহার মোট ১৭৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছে। এর মধ্যে ১৫০ বেসিস পয়েন্টই বেড়েছে গত তিন মাসে।
নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি ধীর হওয়ার বিষয়ে মেব্যাংকের অর্থনীতিবিদ মিরডল গুনারতো মনে করেন, ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া সুদহার বৃদ্ধিতে আগ্রাসী নীতি থেকে সরে আসবে। তবে মাঝারি আকারে সুদহার বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
ব্যাংক ডানামনের অর্থনীতিবিদ উইসনো ওয়ারডানা তার পূর্বাভাসে বছর শেষে মূল্যস্ফীতির হার ৫ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ দশমিক ৩ শতাংশে নামিয়েছেন। তবে তিনি সতর্ক করেন, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির গতি অব্যাহত রয়েছে। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয়ের এ চাপ প্রতিষ্ঠানগুলো ভোক্তাদের ওপর চাপাতে পারে। সুতরাং মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কা রয়ে গিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, মূল্যস্ফীতির চাপ আগামী বছরও অব্যাহত থাকবে। ২০২৩ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। এক্ষেত্রে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এটি লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি আসতে পারে।’
ইন্দোনেশিয়ায় বর্তমানে বেঞ্চমার্ক সুদের হার ৫ দশমিক ২৫ শতাংশে রয়েছে। এ হার ৬ দশমিক ২৫ শতাংশে উন্নীত করতে পারে ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া।










