বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত শস্যের মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চাল। খাদ্যপণ্যটির উৎপাদনে এশিয়ার দেশগুলোর জয়জয়কার। তবে এশিয়ার পাশাপাশি আফ্রিকার দেশগুলোতেও চালের ব্যবহার বেশি হয়। চাল রফতানিতে এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে শীর্ষ তালিকায় উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি দেশ রয়েছে। তবে খাদ্যপণ্যটির আমদানিতে আফ্রিকার প্রাধান্য বেশি। গত বছর বিশ্বজুড়ে চালের শীর্ষ ১০ উৎপাদনকারী, রফতানি ও আমদানিকারক দেশ নিয়ে এবারের ধারাবাহিক আয়োজন—

থাইল্যান্ড

 পরপর দুই বছরের মন্দা ভাবের ধারাবাহিকতায় গত বছর বিশ্বের ষষ্ঠ শীর্ষ চাল উৎপাদনকারী দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে থাইল্যান্ড। এ সময় দেশটিতে সব মিলিয়ে ১ কোটি ৮০ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ কম। এর আগের বছর দেশটিতে ১ দশমিক ১৫ শতাংশ কমে মোট ২ কোটি ৩ লাখ ৪০ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছিল। ২০১৭ সালে থাইল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি চাল উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছিল। ওই বছর দেশটিতে সব মিলিয়ে ২ কোটি ৫ লাখ ৭৭ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছিল। টানা দুই বছর দুই কোটি টনের বেশি চাল উৎপাদনের পর ২০১৯ সালে দেশটিতে খাদ্যপণ্যটি উৎপাদনের পরিমাণ ফের দুই কোটি টনের নিচে নেমে এসেছে।


মিয়ানমার

 টানা তিন বছরের চাঙ্গা ভাব বজায় থাকার পর ২০১৯ সালে মিয়ানমারে চাল উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ কমে এসেছে। এ সময় দেশটিতে সব মিলিয়ে ১ কোটি ২৭ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটি বিশ্বের সপ্তম শীর্ষ চাল উৎপাদনকারী দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০১৮ সালে মিয়ানমারে মোট ১ কোটি ৩২ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছিল। এর আগের বছরও দেশটিতে খাদ্যপণ্যটি উৎপাদনের পরিমাণ একই ছিল। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে মিয়ানমারের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি চাল উৎপাদন হয়েছে। মাঝে এক বছর বাদ দিলে (২০০৪ সাল) চলতি শতকের শুরু থেকে মিয়ানমারে প্রতি বছর এক কোটি টনের বেশি চাল উৎপাদন হয়ে আসছে।

ফিলিপাইন

গত বছর ফিলিপাইনে সব মিলিয়ে ১ কোটি ১৪ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৮৩ শতাংশ কম। এর মধ্য দিয়ে দেশটি চাল উৎপাদনকারী দেশগুলোর বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় অষ্টম অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছে। ২০১৮ সালে দেশটিতে আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ১১ শতাংশ কমে মোট ১ কোটি ১৭ লাখ ৩২ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছিল। ফিলিপাইনের ইতিহাসে ২০১৭ সালে সবচেয়ে বেশি চাল উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছিল। ওই বছর দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির সম্মিলিত উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ১ কোটি ২২ লাখ ৩৫ হাজার টনে।


 জাপান

 পরপর তিন বছর ধরে জাপানের চাল উৎপাদন খাতে মন্দা ভাব বজায় রয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় গত বছর দেশটিতে সব মিলিয়ে ৭৬ লাখ ১১ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৬০ শতাংশ কম। এর মধ্য দিয়ে দেশটি চাল উৎপাদনকারীদের বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় নবম অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছে। ২০১৮ সালে দেশটিতে আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমে মোট ৭৬ লাখ ৫৭ হাজার টন চাল উৎপাদন হয়েছিল। জাপানে চালের উৎপাদন ক্রমেই কমে আসছে। চলতি শতকের শুরুর দিকে দেশটিতে ৮৬ লাখ টনের বেশি চাল উৎপাদন হতো। বছর বছর খাদ্যপণ্যটির উৎপাদন কমিয়ে আমদানিনির্ভর হয়ে উঠেছে জাপান।

পাকিস্তান

বিশ্বের দশম শীর্ষ চাল উৎপাদনকারী দেশ পাকিস্তানে গত বছর খাদ্যপণ্যটির উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ কমেছে। ২০১৯ সালে দেশটিতে সব মিলিয়ে ৭২ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছে। এর আগের বছর পাকিস্তানে সব মিলিয়ে ৭৩ লাখ টন চাল উৎপাদন হয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ কম। পরপর দুই বছর দেশটির চাল উৎপাদন খাতে মন্দা ভাব দেখা গেছে। এর আগে ২০১৭ সালে পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি চাল উৎপাদনের রেকর্ড হয়েছিল। ওই বছর দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির সম্মিলিত উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৭৫ লাখ টনে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। (চলবে)

 

ইউএসডিএ ও এগ্রিমানি