ডলারের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা অবস্থা থাকায় ভোমরা স্থলবন্দরে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাসেই মোটা অংকের রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ২১ কোটি টাকা। তবে আগামীতে ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো গেলে এ ঘাটতি থাকবে না বলে আশা করছেন বন্দরসংশ্লিষ্টরা।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা থেকে জানা গিয়েছে, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৬৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এ লক্ষ্যের বিপরীতে গত জুলাইয়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী যা ২১ কোটি ৪১ লাখ টাকা ঘাটতি। তবে গত অর্থবছরের প্রথম মাসের তুলনায় ২২ লাখ টাকা রাজস্ব বেশি আদায় হয়েছে। সূত্রটি জানায়, গত অর্থবছরের প্রথম মাসে এ বন্দরে রাজস্ব আদায় হয় ৪৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

ভোমরা স্থলবন্দর ব্যবহারকারী সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী দিলওয়ার নওশাদ রাজু জানান, ভৌগোলিক দিক থেকে ভোমরা বন্দরের যে অবস্থান তাতে রাজস্ব আয় অনেকাংশে বাড়ার কথা। কিন্তু নানা সংকট ও জটিলতার কারণে ক্রমেই রাজস্ব আয় কমে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের সব ধরনের মালামাল আমদানির অনুমতির পাশাপাশি বন্দরের সক্ষমতা বাড়ালে আগামীতে রাজস্ব ঘাটতি থাকবে না, বরং লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আদায় করা যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বরত কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার আমীর মামুন জানান, বন্দরে ব্যবসা-বাণিজ্য মন্দা যাওয়ায় চলতি অর্থবছরের শুরুতে রাজস্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কিন্তু গত অর্থবছরের প্রথম মাসের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে রাজস্ব। তবে আগামীতে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিস্থিতির উন্নতি হলে আশা করা যায় এমন রাজস্ব ঘাটতি থাকবে না।

উল্লেখ্য, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক ভোমরা স্থলবন্দরের জন্য চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করে ১ হাজার ২৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। এর মধ্যে জুলাইয়ে ৬৬ কোটি ১৫ লাখ, আগস্টে ৮৪ কোটি ৪১ লাখ, সেপ্টেম্বরে ৯৬ কোটি ৬৯ লাখ, অক্টোবরে ১০০ কোটি ৫৮ লাখ, নভেম্বরে ৯৮ কোটি ৫৬ লাখ, ডিসেম্বরে ৮৪ কোটি ১২ লাখ, জানুয়ারিতে ১০৩ কোটি ৯৮ লাখ, ফেব্রুয়ারিতে ৭৪ কোটি ৮২ লাখ, মার্চে ১০০ কোটি ৮৭ লাখ, এপ্রিলে ৮৫ কোটি ২৫ লাখ, মে মাসে ৫৫ কোটি ২৪ লাখ এবং জুনে ৭৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যা গত ২০২১-২২ অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৭১ কোটি ৯১ টাকা বেশি। সূত্রটি আরো জানায়, গত অর্থবছরে সংশোধিত আকারে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৯৫৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা।