বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত শস্যের মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চাল। খাদ্যপণ্যটির উৎপাদনে এশিয়ার দেশগুলোর জয়জয়কার। তবে এশিয়ার পাশাপাশি আফ্রিকার দেশগুলোতেও চালের ব্যবহার বেশি হয়। চাল রফতানিতে এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে শীর্ষ তালিকায় উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি দেশ রয়েছে। তবে খাদ্যপণ্যটির আমদানিতে আফ্রিকার প্রাধান্য বেশি। গত বছর বিশ্বজুড়ে চালের শীর্ষ ১০ উৎপাদনকারী, রফতানি ও আমদানিকারক দেশ নিয়ে এবারের ধারাবাহিক আয়োজন—
চীন
বিশ্বের শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশগুলোর তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে চীন। দেশটির ইতিহাসে ২০১৮ সালে সবচেয়ে বেশি চাল রফতানির রেকর্ড হয়েছিল। ওই বছর দেশটি থেকে মোট ২৭ লাখ ৭০ হাজার টন চাল রফতানি হয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। তবে গত বছর দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যটির রফতানি আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমেছে। এ সময় চীন থেকে সব মিলিয়ে ২৭ লাখ টন চাল রফতানি হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে টানা তিন বছর পর চীনের চাল রফতানিতে মন্দা ভাব দেখা দিয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে চীন বছরে ২৫ লাখ টনের বেশি চাল রফতানি শুরু করেছে।
মিয়ানমার
টানা তিন বছরের মন্দা ভাব বজায় থাকার ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালে বিশ্বের সপ্তম শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশ মিয়ানমার থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ২২ লাখ টন চাল রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৮ দশমিক ৫২ শতাংশ কম। এর আগের বছর দেশটি থেকে ১ দশমিক ৮২ শতাংশ কমে ২৭ লাখ টন চাল রফতানি হয়েছিল। মিয়ানমারের ইতিহাসে ২০১৬ সালে সবচেয়ে বেশি চাল রফতানির রেকর্ড হয়েছিল। ওই বছর দেশটির রফতানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৩৩ লাখ ৫০ হাজার টন চাল রফতানি করেছিলেন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। এর পর থেকে মিয়ানমারের চাল রফতানি খাতে টানা মন্দা ভাব বজায় রয়েছে।
কম্বোডিয়া
২০১৯ সালে বিশ্বের অষ্টম শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে কম্বোডিয়া। গত বছর দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ১২ লাখ টন চাল রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ দশমিক ১১ শতাংশ কম। এর মধ্য দিয়ে পরপর তিন বছর চাঙ্গা থাকার পর কম্বোডিয়ার চাল রফতানি খাতে মন্দা ভাব দেখা দিয়েছে। ২০১৮ সালে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টন চাল রফতানি হয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ কম। দেশটির ইতিহাসে এটাই চাল রফতানির সর্বোচ্চ রেকর্ড।
উরুগুয়ে
লাতিন আমেরিকার শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশ উরুগুয়ে। গত বছর খাদ্যপণ্যটির রফতানিকারকদের বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় দেশটি নবম অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছে। এ সময় উরুগুয়ে থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৭ লাখ ৭৫ হাজার টন চাল রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ কম। এর আগের বছর দেশটি থেকে ৯ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেড়ে ৮৩ লাখ টন চাল রফতানি হয়েছিল। উরুগুয়ের ইতিহাসে ২০১২ সালে সবচেয়ে বেশি চাল রফতানির রেকর্ড হয়েছিল। ওই বছর দেশটির রফতানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ১০ লাখ ১২ হাজার টন চাল রফতানি করেছিলেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ২২ শতাংশ বেশি।
প্যারাগুয়ে
বিশ্বের দশম শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশ প্যারাগুয়ে। লাতিন আমেরিকার এ দেশটির ইতিহাসে ২০১৮ সালে সবচেয়ে বেশি চাল রফতানির রেকর্ড হয়েছিল। ওই বছর দেশটির রফতানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৬ লাখ ৮৯ হাজার টন চাল রফতানি করেছিলেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৫১ শতাংশ বেশি। তবে গত বছর দেশটি থেকে খাদ্যপণ্যটির রফতানি রেকর্ড সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ১৭ দশমিক ২৭ শতাংশ কমে ৫ লাখ ৭০ হাজার টনে নেমে এসেছে। (চলবে)
ইউএসডিএ ও এগ্রিমানি










