নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও দেশের অর্থনীতিতে বর্তমানে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরেছে। তবে সরকার ব্যাংকগুলোর একীভূতকরণ ও আইনি সংস্কারের মতো কিছু পদক্ষেপ নিলেও এর যথাযথ বাস্তবায়ন এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, ব্যাংক খাতের ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে না পারলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়।

রাজধানীর পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) কার্যালয়ে গতকাল ২০২৫ সালের নভেম্বরের অর্থনৈতিক পর্যালোচনা নিয়ে ‘মান্থলি ম্যাক্রোইকোনমিক ইনসাইটস’ শীর্ষক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি রহমান। পিআরআই আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার।

সেমিনারে কামরান টি রহমান বলেন, ‘২০২৫ সালের নভেম্বর নাগাদ সাধারণ মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এ স্থিতিশীলতা অর্জনের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ধীর হয়ে গেছে। খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি, যা মোট ঋণের এক-তৃতীয়াংশেরও অধিক।’ তার মতে, ব্যাংক খাতের ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে না পারলে ঋণপ্রবাহ বাড়বে না। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়।

সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরলেও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়নি বলে জানান পিআরআইয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি বলেন, ‘পরবর্তী সরকারকে অর্থনৈতিক ধাক্কা সামাল দিতে বনের হরিণের মতো সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি আগাম সতর্কতা ও সংকট মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিতে হবে।’

মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও এখনো উচ্চহারে রয়েছে বলে জানিয়েছেন আশিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘সুদের হার বৃদ্ধি ও বেসরকারি ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি সামান্য কমেছে। তবে মোট মূল্যস্ফীতি এখনো প্রায় ৮ দশমিক ৩ শতাংশ।’

দেশের ব্যবসাগুলো মূলত ব্যাংক ঋণের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল উল্লেখ করে ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, ‘যারা মূলধন সংকটে আটকে আছে তাদের রক্ষা করা ও দেশের অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন।’

ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি ও জনগণের ওপর সহিংসতা অর্থনৈতিক টেকসইকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসিরউদ্দিন আহমেদ।