পাকিস্তানজুড়ে আটা সংকট দেখা দিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন জায়গায় রুটি তৈরির কারখানাগুলোর সামনে মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে। বাড়তি অর্থ দিয়ে হলেও প্রয়োজনীয় রুটি না পাওয়ায় মানুষের মনে বাড়ছে ক্ষোভ। এ সংকট নিরসনে জরুরিভিত্তিতে তিন লাখ টন গম আমদানির অনুমোদন দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। খবর রয়টার্স ও ডন।
দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের ইকোনমিক কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিল জরুরিভিত্তিতে তিন লাখ টন গম আমদানি করবে। ১৫ ফেব্রুয়ারি নাগাদ প্রথম চালানের গম পাকিস্তান পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে। পরবর্তী চালানগুলো ৩১ মার্চের মধ্যে দেশটিতে পৌঁছাতে পারে। তবে কোন দেশ থেকে পাকিস্তান সরকার গম আমদানি করবে, সেই বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। তুলনামূলক কম দামে যে দেশ থেকে অল্প সময়ের মধ্যে আমদানি করা যাবে, সেখান থেকে বেসরকারি আমদানিকারকদের গম আমদানি করতে বলেছে পাকিস্তান সরকার।
কয়েক সপ্তাহ ধরে পাকিস্তানে আটা সংকট চলছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ সংকট তীব্র রূপ নিয়েছে। ফলে বেড়েছে খাদ্যপণ্যটির দাম। তবে বাড়তি অর্থের বিনিময়েও ক্রেতারা আটা কিনতে পারছেন না। দেশটির সরকারের ওপর সুলভে আটা ও রুটি বিক্রির চাপ বাড়ছে। রাওয়ালপিন্ডির গ্যারিসন সিটির একজন বিক্রেতা রয়টার্সকে বলেন, আগে একেকটি রুটি ৮ রুপিতে বিক্রি করতাম। এখন আটা কিনতে বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে। ফলে চাইলেও আগের দামে রুটি বিক্রি করা সম্ভব না। দাম বাড়ানোর ফলে অনেক ক্রেতা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে রান্নার গ্যাসের দাম কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে। সামনে আরেক দফা বাড়তে পারে জ্বালানি পণ্যটির দাম। একদিকে গমের সংকট, অন্যদিকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি—এ দুইয়ের জের ধরে আগামী দিনগুলোয় পাকিস্তানে আটা ও রুটির দাম আরো বাড়তে পারে।
২০১৮ সালের শেষ দিক থেকে গত বছরের জুন পর্যন্ত পাকিস্তান থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ছয় লাখ টন গম রফতানি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্ট্যাটিস্টিকস ব্যুরো অব পাকিস্তান। তবে গত বছরের জুলাইয়ে গম রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটির সরকার। তবে নিষেধাজ্ঞার পরও অক্টোবর পর্যন্ত দেশটি থেকে ৪৮ হাজার টন গম রফতানি হয়েছে। যদিও এসব চালানের সিংহভাগ নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগেই স্থির করা হয়েছিল।
রফতানি বন্ধ করেও গম সংকট এড়াতে পারেনি পাকিস্তান। চলতি বছরের শুরু থেকে দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির সংকট তীব্র রূপ নেয়। ফলে চাপ পড়ে রুটির বাজারেও। দাম বেড়ে দেশটিতে আটা ও রুটি ক্রমেই দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠছে।









