চীনজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ায় অভ্যন্তরীণ কয়লা উত্তোলন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ফলে চাহিদা পূরণে দেশটিকে বাড়তি কয়লা আমদানি করতে হতে পারে। এ কারণে করোনাভাইরাস আক্রান্ত চীনের কয়লা আমদানিনির্ভরশীলতা আরো বাড়তে পারে। খবর রয়টার্স।
চীন বিশ্বের শীর্ষ কয়লা ভোক্তা দেশ। জ্বালানি পণ্যটির উত্তোনকারী দেশগুলোর তালিকায়ও দেশটির অবস্থান শীর্ষে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশটিকে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কয়লা আমদানি করতে হতে পারে। ধারণা করা যেতে পারে, এতে ফুলেফেঁপে উঠতে পারে পণ্যটির শীর্ষ রফতানিকারকরা। তবে খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাস্তবে চীনের বাজারে এ সময় কয়লা রফতানিকারক দেশগুলোর জন্য সুবিধা গ্রহণ বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠবে।
আগামী সপ্তাহগুলোতে চীনে যখন কয়লা আমদানির চাহিদা বৃদ্ধি পাবে, তখন ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো পণ্যটির শীর্ষ রফতানিকারক দেশগুলোর জন্য তা অন্য রকম সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এর কারণ নভেল করোনাভাইরাস কয়লার বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি চীন অভিমুখী পণ্যবাহী কার্গো জাহাজ খোঁজাও রফতানিকারক দেশগুলোর জন্য কঠিন হয়ে যেতে পারে। এছাড়া চীনের বন্দরগুলোতে কয়লা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হলেও, কার্গো খালাস ও ডক থেকে সর্বশেষ ব্যবহারকারীর কাছে পণ্যটি পৌঁছে দেয়ার মতো বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। রফতানিকারক দেশগুলোর জন্য যা মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।
প্রাণঘাতী সংক্রামক ভাইরাসটি এরই মধ্যে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে তা চীনের সঙ্গে বড় ধরনের বাণিজ্য সম্পর্কিত দেশগুলোর অর্থনীতিতেও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
অস্ট্রেলিয়া ও চীনের মধ্যকার কয়লা বাণিজ্য এরই মধ্যে শ্লথ হয়ে পড়েছে। ভাইরাসটির সংক্রামক ঠেকাতে সম্প্রতি চীনফেরতদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে অস্ট্রেলিয়া। এছাড়া ১ ফেব্রুয়ারি দেশটির সরকার ঘোষণা দিয়েছে, চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে ছেড়ে আসা জাহাজগুলোকে অন্য জাহাজ থেকে ১৪ দিন আলাদা করে রাখা হবে। এর ফলে পণ্যটির লেনদেন যেমন বিলম্বিত হয়ে পড়বে, তেমনি আগের তুলনায় খরচ বেড়ে যেতে পারে। এ ঘোষণার পর গত বুধবার অস্ট্রেলিয়ার নিউক্যাসেল বন্দর থেকে চীনের উদ্দেশে পাঠানো কয়লার দাম কমে টনপ্রতি ৪ ডলার ৮৭ সেন্টে নেমেছে, যা প্রায় চার বছরের কাছাকাছি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন।
পূর্ব ও পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার উপকূল থেকে চীনে কয়লা পৌঁছাতে সাধারণত ১৪ দিনের কম সময় লাগে। তবে অস্ট্রেলিয়ার এ উদ্যোগের পর দেশটির বন্দরগুলোতে পৌঁছানোর পর বিলম্বের মুখোমুখি হতে পারে জাহাজগুলো। দেশটির বন্দরগুলোতে বাইরে থেকে আসা জাহাজের সারি এরই মধ্যে লম্বা হতে শুরু করেছে। ৪ ফেব্রুয়ারি লন্ডনভিত্তিক কোম্পানি আরগাস মিডিয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিউক্যাসেল বন্দরের বাইরে অপেক্ষারত জাহাজের সংখ্যা বেড়ে ১৮ মাসের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। নিউক্যাসেল বন্দর দিয়ে বিশ্বের সবচেয় বেশি কয়লা রফতানি হয়।
জাহাজের সারি দীর্ঘায়িত হওয়ার পেছনে প্রতিকূল আবহাওয়া, বন্দর ও রেল রক্ষণাবেক্ষণের মতো আরো নানা কারণ থাকতে পারে। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আগের তুলনায় চীনের বাজারে পণ্য রফতানি ব্যবস্থা আরো জটিল আকার ধারণ করেছে।









