সন্তানকে বড় করে তোলার পাশাপাশি অফিস সামলাতে গিয়ে বেশি সমস্যায় ভোগেন কর্মজীবী মা-বাবা। তাই এসব মা-বাবাকে অতিরিক্ত ছুটি দিতে চায় স্পেনের সরকার। সন্তান যখন অসুস্থ হয় বা যখন তাদের দীর্ঘ গ্রীষ্মকালীন ছুটি চলে তখন কর্মজীবী বাবা-মাকে আরেকটু বেশি ছুটি দেয়ার পরিকল্পনা করছে ইউরোপের দেশটি। খবর এপি।

স্পেনের সামাজিক অধিকারবিষয়ক মন্ত্রী আইওয়ান বেলারা নতুন ‘পারিবারিক আইন’-এর খসড়া উপস্থাপন করেছেন। সেখানে এমন কিছু পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে যাতে কাজ ও সন্তান বড় করে তোলার বিষয়টা সহজ হয়ে যায়। ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো এ দেশও স্বল্প জন্মহার ও বয়স্ক জনসংখ্যা পরিস্থিতিতে ভুগছে।

আইওয়ান বেলারা বলেন, আমরা মা-বাবাকে সুপারহিরো হতে বলি। এ আইনে আমার উদ্দেশ্য যেন তারা শুধুই মা ও বাবা হয়ে ওঠে। এ পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা সন্তানদের আরেকটু বেশি সময় দিতে পারবেন।

খসড়ায় বলা হয়েছে, কাছের কোনো স্বজন অসুস্থ বা হাসপাতালে ভর্তি হলে কর্মজীবীরা বছরে দুই থেকে পাঁচদিন অতিরিক্ত বেতনসহ ছুটি পাবেন। পরিবারে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত জরুরি অবস্থা তৈরি হলে বছরে চারদিন অতিরিক্ত বেতনসহ ছুটি নেয়ার সুযোগ পাবেন বাবা-মায়েরা।

সন্তানের বয়স আট বছর হওয়া পর্যন্ত বছরে আট সপ্তাহের বেতনবিহীন ছুটি নেয়ারও সুযোগ পাবেন মা-বাবা। আইওয়ান বেলারা বলেন, এসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে যেন মা-বাবা স্কুলের গ্রীষ্মকালীন ছুটির সময় সন্তানের আরো বেশি যত্ন নিতে পারেন। এ ছুটি সাধারণত জুনের শেষ ভাগ থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যভাগ পর্যন্ত থাকে। এটি বাবা-মায়ের কর্মক্ষেত্রে ছুটির থেকে অনেক বেশি। প্রাথমিকভাবে ২০২৩ সালে ছুটি ছয় সপ্তাহ এবং ২০২৪ সালে হবে আট সপ্তাহ।

বেলারা বলেন, স্পেনবাসী সন্তান গ্রহণের পরিকল্পনা করলে তা তাদের জন্য আরেকটু সহজ করতেই এসব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পরিসংখ্যান অফিস ইউরোস্ট্যাট জানিয়েছে, ইইউতে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন জন্মহার স্পেনে। সেখানে প্রতি হাজারে জন্মহার ৭ দশমিক ১। এ তালিকায় ২০২০ সালে স্পেনের থেকেও এগিয়ে ছিল ইতালি। ২০১৯ সালে ২৭ দেশের ব্লকটিতে সন্তানসহ ৪০ বছরের বেশি বয়সী নারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল স্পেনে। যা মোট জীবিত সন্তান জন্মদানের তালিকার হিসেবে ১০ শতাংশ।

এ আইনের ফলে শিক্ষা ও যাতায়াতের ক্ষেত্রেও কিছু অর্থছাড়ের সুবিধা পাবেন দুটি বা তার বেশি সন্তানসহ একাকী বাবা বা মা। যে সুবিধা বর্তমানে তিনটি বা তারও বেশি সন্তান থাকলে দুজন বাবা-মা পান। তবে খসড়াটি আইনে পরিণত হতে এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। এছাড়া কংগ্রেস ও সিনেটে ভোটের মুখোমুখি হওয়ার আগে আইনি প্রক্রিয়ায় এ বিল বেশকিছু পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে পারে।