তৃতীয় প্রান্তিকে অপ্রত্যাশিতভাবে ৩৩০ কোটি ডলার লোকসানের কথা জানিয়েছে বোয়িং। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির আয় প্রত্যাশার তুলনায় পিছিয়ে। এছাড়া এয়ার ফোর্স ওয়ান প্রেসিডেন্টাল জেটস নামক সরকারি কর্মসূচি থেকেও বড় ধরনের লোকসান গুনতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। মূলত সরকারি কর্মসূচিগুলোয় লোকসানের জন্য উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় উচ্চতর খরচকে দায়ী করেছে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। খবর রয়টার্স।

সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ডেভিড ক্যালহাউন বলেছেন, বোয়িং একটি চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে রয়েছে। স্থিতিশীলতার জন্য আরো কাজ করতে হবে।

উল্লেখ্য, বোয়িংয়ের এয়ার ফোর্স ওয়ান মূলত নাসার একটি কর্মসূচি, যা মহাকাশচারীদের আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়ার জন্য মহাকাশযান তৈরি করে।

এদিকে প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ ব্যবসায় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির সামঞ্জস্যপূর্ণ আয় কমেছে ২০ শতাংশ। এ সম্পর্কে ডেভিড ক্যালহাউন আরো বলেন, আমরা এগুলো নিয়ে বিব্রত নই, যা হওয়ার তাই হয়েছে। তবে বোয়িংয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা কারখানাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আনতে সরবরাহকারীদের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন।

আগেও সরকারি কর্মসূচিতে বিলিয়ন ডলার লোকসানের কথা জানায় সংস্থাটি। যার মধ্যে ছিল দুটি নতুন প্রেসিডেন্ট জেট নির্মাণের জন্য প্রায় ১০০ কোটি ডলার পরিমাণ আর্থিক লোকসান। চুক্তিটি হয়েছিল তত্কালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়।

সাম্প্রতিক সময়ে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে বেশ সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে বোয়িং। মহামারী-পরবর্তী বিধিনিষেধ না থাকার কারণে ভ্রমণ গন্তব্যগুলোয় ছুটছে মানুষ। উড়োজাহাজ ভ্রমণ বেড়েছে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে এয়ারলাইনসগুলো একের পর এক নতুন প্লেন ক্রয়ের উদ্যোগ নিচ্ছে। বুধবার যেমন আলাস্কা এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে ৫২টির বেশি ৭৩৭ ম্যাক্স জেট ক্রয়ের কথা বলা হয়।

উড়োজাহাজ সরবরাহের মাধ্যমে এক বছর আগের তুলনায় বোয়িংয়ের আয় বেড়েছে ৪০ শতাংশ। তবে এক বছরের সময়কালের সামান্য আগে ৬৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার হারিয়েছে সংস্থাটি। উৎপাদন ত্রুটির কারণে প্রায় দুই বছর ধরে বোয়িং ৭৮৭ জেট মডেলগুলো সরবরাহ করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে এ ক্ষতির মুখে পড়ে সংস্থাটি। আগস্টের শেষের দিকে আবারো ৭৮৭ জেট বিতরণ শুরু করে, যা কোম্পানির নগদ অর্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে কাজ করে। আরলিংটন ও ভার্জিনিয়াভিত্তিক বোয়িংয়ের তিনটি প্রধান বিভাগের মধ্যে লাভ হয়েছে শুধু পরিষেবা ব্যবসায়।

তবে এক বছর আগের ১৩ কোটি ২০ লাখ ডলার লোকসানের তুলনায় তৃতীয় প্রান্তিকের ক্ষতির মাত্রা বেশি। যেখানে কিছু আইটেম বাদ দিয়ে সামঞ্জস্যের চেষ্টা করা হয়েছে। যদিও ১ হাজার ৫৯৬ কোটি ডলার রাজস্বের ওপর শেয়ারপ্রতি লোকসানের পরিমাণ ৬ ডলার ১৮ সেন্ট। বিশ্লেষকরা ধারণা করেছিলেন, কোম্পানিটি ১ হাজার ৭৯১ কোটি ডলার আয়ের ওপর শেয়ারপ্রতি ১৩ সেন্ট উপার্জন করবে।