ডলার সংকটের পাশাপাশি ব্যাংকে এলসি জটিলতার কারণে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি কমে গেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দুই লাখ টন কম হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য সংকটের কারণেও আমদানি অব্যাহত কমছে।
আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু ডলার সংকট বা এলসি জটিলতা নয়, ভোমরা বন্দরে বৈষম্যের কারণেও আমদানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
এ বন্দর দিয়ে চাল, গম, ভুট্টা, পেঁয়াজ, রসুন, বিভিন্ন প্রকার ফল, পাথরসহ ৭৭ প্রকার পণ্য আমদানি হয়। ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব বিভাগ থেকে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে পণ্য আমদানি হয়েছে ১৮ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫৪ টন। আমদানীকৃত এসব পণ্যের দাম ৩ হাজার ৯৯৯ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, যেখান থেকে সরকারের রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৩০০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময় আমদানি হয়েছিল ২১ লাখ ৮ হাজার ৩৮৩ টন, যার মূল্য ছিল ৫ হাজার ৭৮৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। সেখান থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছিল ৪৯৮ কোটি ৫ লাখ টাকা। সে হিসাব অনুযায়ী গত অর্থবছরের প্রথম আট মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে পণ্য আমদানি কমেছে ২ লাখ ১৩ হাজার ৭২৯ টন।
ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজি দিলওয়ার নওশাদ রাজু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ভোমরা বন্দরে পণ্য আমদানি কমে যাওয়ার অনেকগুলো কারণের মধ্যে অন্যতম আমদানিতে চরম বৈষম্য। পূর্ণাঙ্গ বন্দর হওয়া সত্ত্বেও ভোমরা বন্দরে বৈধ সব ধরনের পণ্য আমদানি করতে দেয়া হয় না। এখানে ৭৭ ধরনের পণ্য আমদানির অনুমোদন রয়েছে। উচ্চকরযুক্ত পণ্য আমদানি করা যায় না। যেসব পণ্য আমদানির অনুমতি রয়েছে, সেগুলোর জন্যও পর্যাপ্ত সুবিধা পাওয়া যায় না। আমাদের পার্শ্ববর্তী বেনাপোল বন্দরে পণ্য আমদানিতে যে সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়, ভোমরা বন্দরে তা দেয়া হয় না। পচনশীল পণ্য আমদানিতে দেশের অন্যান্য বন্দরে কিছু ছাড় পান ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ভোমরা বন্দরে কোনো ছাড় দেয়া হয় না। ফলে ব্যবসায়ীরা দিন দিন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন এ বন্দর থেকে।’
সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পণ্য আমদানি-রফতানিতে দেশের অন্য সব বন্দরের চেয়ে অনেক সম্ভাবনাময় ভোমরা। অথচ এ বন্দর যাত্রার পর থেকে নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো। কোনো প্রকার যানজট বা পণ্যজট হয় না। তার পরও এ বন্দরে সব ধরনের পণ্য আমদানি করতে পারেন না ব্যবসায়ীরা। ফলে সরকারও রাজস্ব কম পাচ্ছে, আমদানিও কমে যাচ্ছে। সব বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানাই।’
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বরত কাস্টমসের ডেপুটি সহকারী কমিশনার নেয়ামুল হাসান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বন্দরে পণ্য আমদানি কম-বেশি হয় ব্যবসায়ীদের চাহিদার ওপর নির্ভর করে। ব্যবসায়ীরা পণ্য আমদানিতে যেমন এলসি খুলবেন, তেমন পণ্য আসবে। এখানে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কিছুই করার থাকে না। তবে ব্যবসায়ীরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই পণ্য আমদানি-রফতানি করতে পারেন, সে ব্যাপারে কাস্টমসের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হয়। কিন্তু এখানে কোনো প্রকার অবৈধ সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে না।’










