ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ইউরোপে বেড়েছে মুদ্রাস্ফীতি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত বৃহস্পতিবার ফের নীতি সুদহার বাড়িয়েছে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি)। এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো সুদহার বাড়িয়েছে সংস্থাটি। নতুন সিদ্ধান্তে ব্যাংকটির মূল আমানত সুদহার বা বেঞ্চমার্ক ডিপোজিট রেট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশে। হারটিকে অর্থনৈতিক পরিভাষায় ‘নিরপেক্ষ সীমা’ ধরা হয়, যা প্রবৃদ্ধিকে গতিশীল বা ধীর কোনোটিই করে না। খবর রয়টার্স।

ইউরোপের ২১ দেশের মুদ্রা ইউরো। এ দেশগুলোয় গত আগস্টে মুদ্রাস্ফীতি ৩ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। অথচ ইসিবির লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশ। জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতি দ্রুত বাড়ছে। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত আরো দীর্ঘ হলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ইসিবি।

বার্লিনে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর দেয়া বিবৃতিতে ইসিবি জানায়, অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেক বেশি। মুদ্রাস্ফীতি আরো বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার ঝুঁকিও আছে। তবে মুদ্রাস্ফীতি বাড়লেও ইউরোপের অর্থনীতি এখন পর্যন্ত বেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে। এ কারণে ২০২৬ সালে ইউরোজোনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে ইসিবি। জুনে দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হলেও এখন তা বাড়িয়ে দশমিক ৯ শতাংশ করা হয়েছে।

ইসিবি ধারণা করছে, চলতি বছর ইউরোজোনে গড় মুদ্রাস্ফীতি ৩ শতাংশ থাকবে। ২০২৭ সালে তা কমে ২ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে। তবে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম আরো বাড়তে পারে। ইউরোপের গ্যাস মজুদও ঐতিহাসিক গড়ের তুলনায় কম। শীতের আগে গ্যাসের চাহিদা বাড়লে পরিস্থিতি আরো কঠিন হতে পারে।

এদিকে জ্বালানির দাম বাড়লেও এখন পর্যন্ত অন্যান্য পণ্য ও সেবার দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। খাদ্য ও জ্বালানির মতো অস্থির খাত বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল বা আন্ডারলাইয়িং মুদ্রাস্ফীতি গত মাসে কমেছে। সেবার মূল্য বাড়ার গতি কমেছে এবং মজুরি বৃদ্ধিও ধীরগতি হচ্ছে।

অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ভালো থাকলেও সুদহার আরো বাড়ানোর বিষয়ে ইসিবি সতর্ক থাকতে পারে। এ বছর ও আগামী বছর সুদ আরো বাড়ার প্রত্যাশা থাকলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ধীরগতিতে এগোতে পারে। এখন ইসিবির পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দের বক্তব্যের দিকে।