আয়কর ও ভ্যাটের অটোমেশন বাস্তবায়ন, নতুন আয়কর আইনের ৭০ ধারা অনুযায়ী অতিরিক্ত করের বোঝা কমিয়ে আনা, উৎসে কর কমিয়ে আনা এবং ব্যবসায়িক খরচের সম্পূর্ণ অংশ রিটার্নে অনুমোদনযোগ্য ব্যয় হিসেবে বিবেচনার দাবি জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।
গতকাল ডিসিসিআই সভাপতি আশরাফ আহমেদ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। এদিন কৃষি, রাসায়নিক ও সেবা খাতের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে এনবিআরের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাজেট আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। এ সময় এনবিআরের আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট নীতির সদস্য, প্রথম সচিব ও দ্বিতীয় সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিসিসিআই সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, ‘এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী দেশে টিআইএনধারী রয়েছেন প্রায় এক কোটি, যেখানে ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ৩২ লাখ করদাতা রাজস্ব প্রদান করেছে। প্রত্যক্ষ কর বৃদ্ধির লক্ষ্যে করজাল বাড়াতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আয়কর অধ্যাদেশের ৭০ ধারা অনুযায়ী ব্যবসায়িক ক্ষতি কেবল ব্যবসা থেকে আয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা যাবে। এজন্য ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশের ৩৭ ধারা পুনর্বহাল করা দরকার। এতে করে ব্যবসায়ীদের ওপর করের বোঝা কিছুটা হলেও লাঘব হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ফান্ড, সুপার অ্যানুয়েশন ফান্ড এবং পেনশন ফান্ড থেকে উদ্বৃত্ত আয় করমুক্ত ঘোষণা করার প্রস্তাব করেন আশরাফ আহমেদ।’
যাবতীয় ট্যাক্সসংক্রান্ত বিষয় অটোমেশনের আওতায় আনার জন্য একটি সমন্বিত কর প্রশাসন ব্যবস্থা (আইটিএএস) প্রবর্তনের আহ্বান জানান আশরাফ আহমেদ। এর মাধ্যমে কর প্রদান ও করসংক্রান্ত যেকোনো বিষয় সহজে সমাধান সম্ভব হবে বলে জানান তিনি। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির কারণে পণ্য সরবরাহ খরচ বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে ভ্যাটের আওতা-বহির্ভূত ব্যবসায়ীদের টার্নওভারের ঊর্ধ্বসীমা ৩ কোটি টাকা থেকে ৪ কোটি টাকায় উন্নীত করারও প্রস্তাব করেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি।
সভায় ফিড অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (এফআইএবি) সভাপতি শামসুল আরেফিন খান কৃষক ও ক্ষুদ্র এবং মাঝারি উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে কাঁচামাল কেনার ক্ষেত্রে উৎসে কর আদায়ে বিধি বাতিল এবং ফিড তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব জানান।
বাংলাদেশীয় চা সংসদের মহাসচিব ড. মোজাফফর আহম্মদ আমদানীকৃত চায়ের শুল্ক ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশ বহাল রাখা ও নমুনা চায়ের ওপর মূল্য সংযোজন আরোপ না করার প্রস্তাব তুলে ধরেন। বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ দেশে গাজরের কোল্ড স্টোরেজ এ বছরই চালু করা হবে বলে জানান। এজন্য এনবিআরের কাছ থেকে নীতিগত সহায়তা চান তিনি। ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তায় এ বছর থেকে আলুর পাশাপাশি গাজরের স্টোরেজের জন্য তিনটি নতুন চেম্বার দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্থাপন করা হবে, যা শুধু গাজর সংরক্ষণ করবে। এ তিন স্টোরেজের মাধ্যমে ৩ হাজার টন গাজর স্টোরেজ করা সম্ভব হবে।’
এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, ‘ব্যবসার উন্নয়ন যেভাবে হয়, সেভাবে আমরা পলিসি নির্ধারণ করতে চাই। তবে কোনো শিল্প ও ব্যবসাকে সুবিধা দেয়ার পর তার অপব্যবহার হোক আমরা চাই না। অপব্যবহারের প্রবণতা এ সমাজে রয়েছে। এটা মানি লন্ডারিংয়ের পর্যায়ে চলে যায়, যা ঠেকাতে শক্ত পদক্ষেপ নিতে গেলে আবার ব্যবসা ক্ষতি বা বাধাগ্রস্ত হয়। ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো কাজ শুরু করতে গেলে অসৎ চক্র এমনভাবে তৈরি হয় তারা ভালো জিনিস নষ্ট করে ফেলে। যার ফলে ভালো ব্যবসায় সহায়তা বেশিদিন চলমান রাখা যায় না।’










