আর্জেন্টিনায় চলতি বছর জলপাই আবাদ কমেছে। তার ওপর নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণের জের ধরে দেশটিতে পণ্যটি সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াকরণে প্রয়োজানীয় শ্রমিক পাওয়া দুরূহ হয়ে উঠেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে অলিভ অয়েলের মূল্য কমে যাওয়ায় খাতসংশ্লিষ্টদের পণ্যটি উৎপাদনে মুনাফা কমিয়ে এনেছে। সবকিছু মিলে চলতি বছর দেশটিতে অলিভ অয়েলের উৎপাদন নিম্নমুখী থাকতে পারে। খবর অলিভ অয়েল টাইমস।

ইন্টারন্যাশনাল অলিভ অয়েল কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর আর্জেন্টিনায় জলপাইয়ের আবাদি জমির পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় সামান্য কমেছে। ফলে বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশটি ২৭ হাজার ৫০০ টন অলিভ অয়েল উৎপাদন করেছে। ২০১৭-১৮ উৎপাদন বর্ষ থেকে দেশটিতে কৃষিপণ্যটির আবাদ ক্রমেই কমছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

আইইএস কনসাল্টোরিসের ডিরেক্টর আলেজান্দ্রো ওভান্দো বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে অলিভ অয়েল শিল্প একটি অলাভজনক খাতে পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছরের মূল্য মন্দা এর অন্যতম কারণ। অলাভজনক হওয়ায় উৎপাদকেরা পণ্যটি উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে সামগ্রিকভাবে অলিভ অয়েলের উৎপাদন কমছে।

এছাড়া ২০১৯ সালে কৃষি রফতানিতে বাড়তি করারোপ করে আর্জেন্টিনা। এতে দেশটিতে সামগ্রিকভাবে অলিভ অয়েলের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। একদিকে বিশ্বব্যাপী নিম্নমূল্য, অন্যদিতে বাড়তি কর—সব মিলিয়ে দেশটিতে থেকে পণ্যটির রফতানিতে খাতসংশ্লিষ্টদের আয় কমেছে। অথচ খরচ বেড়েছে। এর ওপর বর্তমানে পড়েছে নভেল করোনাভাইরাসের ধাক্কা। ভাইরাসটি সংক্রমণের পর অলিভ অয়েলের বৈশ্বিক চাহিদা কমেছে। অন্যদিকে লকডাউন ও সরকারি বাধানিষেধের জেরে আমদানি-রফতানি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মহামারীর প্রাদুর্ভাবে শুধু রফতানি খাতই নয়, আর্জেন্টিনায় অলিভ অয়েলের অভ্যন্তরীণ চাহিদাও কমেছে। অর্ধদশক ধরে দেশটি প্রতি বছর গড়ে সাড়ে সাত হাজার টন অলিভ অয়েল ব্যবহার করে আসছে।

ভ্যালি দে লা পুয়েত্রা অলিভ অয়েল কোম্পানির সভাপতি ও আর্জেন্টিনার অলিভ ফেডারেশনের বোর্ড মেম্বার জুলিয়ান ক্লুসেলাস বলেন, সত্যি বলতে আমাদের কোনো লাভ হয় না। পণ্যটির রফতানিতে প্রধান সমস্যা আন্তর্জাতিক বাজারে এর মূল্য খুব কম। ফলে দিন দিন কৃষিপণ্যটি উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। চলতি বছর তার কোম্পানি ৬৫০ টন অলিভ অয়েল উৎপাদন করেছে বলে জানান তিনি, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৪৫০ টন কম।

এছাড়া পণ্যটির মূল্য হ্রাসের অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি কৃষিপণ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়েনের (ইইউ) অতিরিক্ত ভর্তুকি প্রদান নীতিকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, অলিভ অয়েলে ইউরোপিয়ান ইকোনমিক কমিউনিটি প্রচুর পরিমাণে ভর্তুকি দেয়, যা পণ্যটির মূল্য হ্রাসের অন্যতম কারন। আগামীতে আর্জেন্টিনার অলিভ অয়েলে এ সংকট আরো জোরালো হয়ে উঠতে পারে বলে জানান তিনি। কারণ আগামী উৎপাদন বর্ষে অলিভ অয়েল উৎপাদন রেকর্ড বাড়তে পারে ইইউ।

ইইউর এগ্রি-ফুডের শর্ট-টার্ম আউটলুকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২০-২১ উৎপাদন বর্ষে অঞ্চলটিতে সব মিলিয়ে ২৩ লাখ টন অলিভ অয়েল উৎপাদন হতে পারে। পাঁচ বছরের মধ্যে এটাই পণ্যটির সর্বোচ্চ উৎপাদনের রেকর্ড। উৎপাদন বৃদ্ধির জেরে অঞ্চলটি থেকে পণ্যটির রফতানি সরবরাহ বাড়বে। এদিকে ভর্তুকির কারণে পণ্যটির মূল্য থাকবে কমতির দিকে। এতে বেশির ভাগ আমদানিকারক আর্জেন্টিনার পরিবর্তে ইইউ থেকে অভিল অয়েল ক্রয় বাড়াবেন বলে ধারণা করছেন জুলিয়ান ক্লুসেলাস।