বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত শস্যের মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চাল। খাদ্যপণ্যটির উৎপাদনে এশিয়ার দেশগুলোর জয়জয়কার। তবে এশিয়ার পাশাপাশি আফ্রিকার দেশগুলোতেও চালের ব্যবহার বেশি হয়। চাল রফতানিতে এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে শীর্ষ তালিকায় উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি দেশ রয়েছে। তবে খাদ্যপণ্যটির আমদানিতে আফ্রিকার প্রাধান্য বেশি। গত বছর বিশ্বজুড়ে চালের শীর্ষ ১০ উৎপাদনকারী, রফতানি ও আমদানিকারক দেশ নিয়ে এবারের ধারাবাহিক আয়োজন—
সৌদি আরব
বিশ্বের চাল আমদানিকারক দেশগুলোর শীর্ষ তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে সৌদি আরব। গত বছর দেশটিতে ১১ লাখ টনের কিছু বেশি চাল আমদানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২২ দশমিক ৮১ শতাংশ কম। এর মধ্য দিয়ে টানা দুই বছর পর মন্দার মুখ দেখেছে সৌদি আরবের চাল রফতানি খাত। এর আগের বছর দেশটিতে ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমে ১৪ লাখ ২৫ হাজার টন চাল আমদানি হয়েছিল। সৌদি আরবের ইতিহাসে ২০১৩ সালে সবচেয়ে বেশি চাল আমদানির রেকর্ড হয়েছিল। ওই বছর দেশটির আমদানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ১৪ লাখ ৫৯ হাজার টন চাল আমদানি করেছিলেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।

ইরাক
পরপর তিন বছরের চাঙ্গা ভাবের পর ২০১৯ সালে বিশ্বের সপ্তম শীর্ষ চাল আমদানিকারক দেশ ইরাক আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সব মিলিয়ে ১১ লাখ টন চাল আমদানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ কম। এর আগের বছর দেশটিতে ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়ে ১১ লাখ ৮০ হাজার টন চাল আমদানি হয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটির ইতিহাসে ২০১১ সালে সবচেয়ে বেশি চাল আমদানির রেকর্ড হয়েছিল। ওই বছর দেশটির আমদানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ১২ লাখ ৪১ হাজার টন চাল আমদানি করেছিলেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ বেশি।
সংযুক্ত আরব আমিরাত
গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাত বা ইউএই বিশ্বের অষ্টম শীর্ষ চাল আমদানিকারক দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। এ সময় দেশটি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সব মিলিয়ে ১০ লাখ টনের কিছু বেশি চাল আমদানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেশি। ইউএইর ইতিহাসে এটাই চাল আমদানির সর্বোচ্চ রেকর্ড। ১৯৯৫ সালের পর থেকে দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির আমদানিতে কখনই মন্দা ভাবের দেখা মিলেনি। ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ৮ লাখ ৫০ হাজার টন চাল আমদানি করেছিল ইউএই, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেশি।
ইরান
গত বছর চাল আমদানিকারকদের বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় নবম অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছে ইরান। এ সময় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সব মিলিয়ে ১০ লাখ টন চাল আমদানি করেছে দেশটি, যা আগের বছরের তুলনায় ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ কম। এর আগের বছর দেশটিতে ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে ১৩ লাখ টন চাল আমদানি হয়েছিল। ইরানের ইতিহাসে ২০১২ সালে সবচেয়ে বেশি চাল আমদানির রেকর্ড হয়েছিল। ওই বছর দেশটির আমদানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ২১ লাখ টন চাল আমদানি করেছিলেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি।

সেনেগাল
বিশ্বের দশম শীর্ষ চাল আমদানিকারক দেশ সেনেগাল। আফ্রিকার এ দেশটিতে গত বছর ১০ লাখ টনের সামান্য কম চাল আমদানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় শূন্য ৯ দশমিক ৯ শতাংশ কম। এর আগের বছর দেশটিতে ১১ লাখ টন চাল আমদানি হয়েছিল। সেনেগালের ইতিহাসে ২০১৪ সালে সবচেয়ে বেশি চাল আমদানির রেকর্ড হয়েছিল। ওই বছর দেশটির আমদানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ১২ লাখ টন চাল আমদানি করেছিলেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। টানা তিন বছর চাঙ্গা থাকার পর ২০১৯ সালে দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির আমদানিতে মন্দা ভাব দেখা গেছে। (শেষ)
ইউএসডিএ ও এগ্রিমানি