গত অক্টোবরে চীনের রফতানি ১৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে দাঁড়িয়েছে। নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর ধাক্কা কাটিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিটি যে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, শনিবার প্রকাশিত উপাত্তে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। খবর রয়টার্স ও এএফপি।

চীনের শুল্ক বিভাগ গতকাল জানায়, প্রথম ১০ মাসে চীনের যন্ত্রপাতি ও বৈদ্যুতিক পণ্য রফতানি বেড়েছে। এছাড়া ফেস মাস্কসহ বস্ত্র রফতানি গত বছরের চেয়ে ৩৫ শতাংশ বেড়েছে।

গত অক্টোবরে চীনের রফতানি আগের বছরের একই মাসের চেয়ে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল অবশ্য ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। গত সেপ্টেম্বরে চীনের রফতানি বেড়েছিল ৯ দশমিক ৯ শতাংশ।

রফতানি বৃদ্ধির জেরে অক্টোবরের বাণিজ্য উদ্বৃত্তি ৫ হাজার ৮৪৪ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, রয়টার্সের পুলের পূর্বাভাস ছিল যেখানে ৪ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। গত সেপ্টেম্বরে উদ্বৃত্তি হয়েছিল ৩ হাজার ৭০০ কোটি ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ১৩৭ কোটি ডলার। গত সেপ্টেম্বরে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৭৫ কোটি ডলার।

চিকিৎসাসামগ্রীর শক্তিশালী চাহিদার ওপর দাঁড়িয়ে কভিড-১৯ মহামারীর মধ্যেও চীনের রফতানি চাঙ্গা রয়েছে। সাংহাইভিত্তিক ব্যাংক অব কমিউনিকেশনসের বিশ্লেষক লিয়ু জুয়েজি বলেন, প্রত্যাশার চেয়ে রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে এবং অর্থনীতিতে দৃঢ়তার সাক্ষ্য দিচ্ছে।

ফেস মাস্কসহ কভিড-১৯ সংক্রান্ত বিভিন্ন স্বাস্থ্যপণ্য রফতানির জেরে ২০২০ সালের বাকি অংশেও চীনের রফতানি চাঙ্গা থাকবে বলে মনে করেন লিয়ু।

বেসরকারি একটি জরিপে দেখা গেছে, অক্টোবরে চীনের কারখানা কার্যক্রম প্রায় এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ চাঙ্গা ছিল। এছাড়া রফতানি ক্রয়াদেশ বেড়েছে।

তবে আসন্ন কয়েক মাসে দেশটির রফতানি চাপে পড়বে বলে মনে করছেন কিছু বিশ্লেষক। কারণ ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় অর্থনীতিগুলোয় দ্বিতীয় দফায় কভিড-১৯ সংক্রমণ বৃদ্ধিতে লকডাউনে যাচ্ছে।

গত অক্টোবরে চীনের আমদানি বছরওয়ারি বেড়েছে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। গত সেপ্টেম্বরের ১৩ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির চেয়ে অবশ্য শ্লথগতি দেখা যাচ্ছে দেশটিতে আমদানিতে। রয়টার্সের জরিপে অবশ্য অক্টোবরে আমদানিতে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। আমদানিতে শ্লথগতি দেখা দিলেও টানা দ্বিতীয় মাসের মতো প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

শিল্প সূত্রে জানা গেছে, নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কায় চীনা উড়োজাহাজ সংস্থা কর্তৃক এয়ারবাসের কিছু উড়োজাহাজের ডেলিভারি গ্রহণে অস্বীকৃতিতে আমদানিতে শ্লথগতি দেখা গেছে।

আইএনজির বৃহত্তর চীনবিষয়ক মুখ্য অর্থনীতিবিদ আইরিস প্যাং বলেন, অক্টোবরের শুরুর দিকে দীর্ঘ ছুটির কারণেও আমদানিতে প্রভাব পড়তে পারে।

চলতি বছরের শুরুতে আমদানি ও রফতানিতে বড় আকারের শ্লথগতি দেখা দিয়েছিল। কিন্তু গত কয়েক মাসে বাণিজ্য পারফরম্যান্স শক্তিশালী হওয়ায় চীনের বিস্তৃত অর্থনৈতিক খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে পুরো বছরের প্রবৃদ্ধি দাঁড়াতে পারে ২ শতাংশ, যা হবে গত তিন দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। অবশ্য এটা বিশ্বের অন্যান্য প্রধান অর্থনীতির চেয়ে বেশ শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি হিসেবেই দেখা দেবে।

সিঙ্গাপুরে কমার্জব্যাংকের অর্থনীতিবিদ ঝু হাও বলেন, মহামারী থেকে বেশ ভালোই আরোগ্য লাভ করেছে চীন এবং অন্যান্য দেশের চেয়ে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সুবিধাজনক অবস্থান ক্ষণস্থায়ীও হতে পারে এবং এটা হয়তো চলতি বছরের শেষ নাগাদ বহাল থাকবে।