চীনের জিডিপি কয়েক বছর ধরে প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়ছে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভোক্তা চাহিদা কমে যাওয়া, আবাসন ব্যবসায় ধস, আর্থিক খাতের অস্থিরতা ও স্থানীয় সরকারের ঋণ। এসবের মধ্যেই চীনা অর্থনীতির জন্য আরেকটি দুঃসংবাদ দিল সরকারি সংস্থা। দেশটির ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস (এনবিএস) গতকাল জানিয়েছে, গত জানুয়ারিতে চীনের কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (সিপিআই) আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। এটি ২০০৯ সালের পর সবচেয়ে দ্রুততম পতন। খবর সিএনএন।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, চীনের মূল্যসংকোচন সাম্প্রতিক সময়ে গভীর হয়েছে। ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকটের সময় মূল্যসংকোচন ছিল সর্বনিম্ন। ওই রেকর্ডের পর এবার সবচেয়ে দ্রুত মূল্যসংকোচনের সম্মুখীন হয়েছে দেশটি।
চীনের শহুরে পরিবারগুলোর পণ্য ও সেবার দামের পরিবর্তন নির্দেশ করে সিপিআই। এক বছর আগের সঙ্গে তুলনা করলে গত জানুয়ারিতে এ দুই খাতে সবকিছুর মূল্য দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে, যা ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরের পর থেকে সূচকের সবচেয়ে দ্রুততম পতন এবং টানা চতুর্থ মাসের পতন।
এনবিএসের কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, গত বছর ছুটির কারণে পণ্য ও সেবার চাহিদা বেড়েছিল এবং এ কারণে দাম কিছুটা বেশি ছিল। এর তুলনায় চলতি বছর মূল্যসংকোচন তীব্র হয়েছে।
এইচএসবিসি ব্যাংকের অর্থনীতিবিদরা গতকাল একটি গবেষণা নোটে জানিয়েছেন, গত বছরের জানুয়ারির শেষের দিকে ছিল চন্দ্র নববর্ষ। ফলে মূল্যস্ফীতি বা মূল্যসংকোচনের কারণ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
২০২৩ সালে চীনের মূল ভূখণ্ডে ২১-২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত চন্দ্র নববর্ষ উদযাপিত হয়েছিল। ফলে ওই সময় সিপিআই ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছিল। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভোক্তা পর্যায়ে চাহিদা কমে পণ্যমূল্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশেষ করে খাদ্যের দামের সূচক গত মাসে পতনমুখী ছিল। চীনের নিত্যপণ্যের মধ্যে মাংসের দাম এক বছর আগের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। সবজির দাম কমেছে প্রায় ১২ শতাংশ।
আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান আইএনজি ইকোনমিকসের গ্রেটার চায়নার প্রধান অর্থনীতিবিদ লিন সং বলেছেন, ফেব্রুয়ারির পর থেকে ভোক্তা পর্যায়ে জিনিসপত্রের দাম বাড়তে পারে। মূল প্রভাবকগুলো জানুয়ারির পর থেকেই ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
মাসিক হিসাবে ডিসেম্বরের তুলনায় সিপিআই প্রকৃতপক্ষে জানুয়ারিতে দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে, যা টানা দ্বিতীয় মাসে বেড়েছে।
মাংসের দাম আগামী মাসগুলোয় বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস করছেন মার্কেট বিশ্লেষকরা। কারণ ছুটির সময় মাংসের চাহিদার সঙ্গে দামও বাড়ে। আগামীকাল থেকে চীনে চন্দ্র নববর্ষ উদযাপন করা হবে। ফলে ফেব্রুয়ারিতে বাজারে আরো অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
প্রসঙ্গত, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হচ্ছে চীন। দেশটির অর্থনীতি ২০২৩ সালে দ্রুত পুনরুদ্ধার করবে এবং পুনরায় বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হবে বলে আশা করেছিলেন অর্থনীতিবিদরা। যদিও দেশটির অর্থনীতি এখনো শ্লথতার চক্র থেকে বের হতে পারেনি। ২০২৪ সালে এ সংকট আরো গভীর হবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। নিম্নমুখী জনসংখ্যা, চাহিদা কমে যাওয়া, তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব, আবাসন ও ব্যাংক খাতের ধসকে এ সংকটের জন্য দায়ী করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, দেশটি ২০২৩ সালে প্রায় ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করবে। তবে এটি এখনো কভিড-১৯ মহামারীর আগের দশকের গড় ৬ শতাংশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধির নিচে।










