মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখেছে চীনের জাহাজ নির্মাণ শিল্প। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) চীনা জাহাজ নির্মাতাদের নতুন অর্ডার বা ক্রয়াদেশ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ হয়েছে। মূলত তেলবাহী ট্যাংকার ও বড় আকারের পণ্য পরিবহনকারী জাহাজের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
চায়না অ্যাসোসিয়েশন অব দ্য ন্যাশনাল শিপবিল্ডিং ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত চীনের জাহাজ নির্মাণ শিল্পে নতুন ক্রয়াদেশের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ১০ লাখ ৬০ হাজার টন ডেডওয়েট (একটি জাহাজের নিরাপদভাবে সর্বোচ্চ বহন করা ওজনের পরিমাপ)। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৭ গুণ বেশি। একই সময়ে বৈশ্বিক জাহাজ নির্মাণের বাজারে চীনের হিস্যা বেড়ে হয়েছে ৮২ শতাংশ, যা এক বছর আগে ছিল ৬৮ শতাংশ।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ নির্মাতা চায়না স্টেট শিপবিল্ডিং করপোরেশন (সিএসএসসি) জানায়, বছরের প্রথম ছয় মাসে ২ কোটি ২৪৫ লাখ টন ডেডওয়েটের নতুন অর্ডার পেয়েছে। এক বছর আগের তুলনায় এ অর্ডার দ্বিগুণের বেশি। বেসরকারি খাতের জাহাজ নির্মাতা হেংলি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজও জানুয়ারি-জুন ২০৭টি জাহাজের ক্রয়াদেশ পেয়েছে। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি ১১৫টি জাহাজের অর্ডার পেয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের তেল পরিবহনে অনিশ্চয়তা এ চাহিদা বাড়ার অন্যতম কারণ। ইরান যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পারস্য উপসাগর থেকে অনেক জাহাজ বের হতে পারেনি। এতে এশিয়ার যেসব দেশ মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর বেশি নির্ভরশীল, সেগুলো আগেভাগেই বিকল্প উৎস থেকে তেল আনার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। বিকল্প উৎস থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আনতে হলে সমুদ্রপথ দীর্ঘ হবে। ফলে একই পরিমাণ তেল পরিবহনে বেশি জাহাজ প্রয়োজন হবে। এ আশঙ্কা থেকেই ট্যাংকারসহ বিভিন্ন ধরনের বড় জাহাজের অর্ডার বাড়তে থাকে।
ডেনমার্কভিত্তিক শিপিং শিল্পসংগঠন বিমকো জানায়, জুলাইয়ে বিশ্বজুড়ে তেলবাহী ট্যাংকার নির্মাণের চুক্তি বার্ষিক হিসাবে নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। গ্যাসবাহী জাহাজ ও বাল্ক ক্যারিয়ারসহ অন্যান্য জাহাজের চাহিদাও বেড়েছে।
শিপিং ও জাহাজ নির্মাণবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লার্কসন্স রিসার্চের স্টিফেন গর্ডনের মতে, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো জটিল হওয়ায় পরিবহন সক্ষমতা নিশ্চিত করার প্রয়োজন বাড়ছে।
এদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাহাজ নির্মাণে একসময় এগিয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের কাছে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান হারিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেভাল ইন্টেলিজেন্সের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চীনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতা দশমিক ৫ শতাংশেরও কম।










