চলতি ২০২২-২৩ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) আগের হিসাব বছরের একই সময়ের তুলনায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আরামিট লিমিটেডের বিক্রি কমার পাশাপাশি কর-পরবর্তী নিট মুনাফাও কমেছে। একই সময়ে আরামিট সিমেন্ট লিমিটেডের বিক্রি বাবদ আয় কমার পাশাপাশি নিট লোকসানের বোঝা আরো বড় হয়েছে। গতকাল পৃথকভাবে প্রকাশিত কোম্পানি দুটির চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আরামিট লিমিটেড: চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির বিক্রি হয়েছে ১৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির বিক্রি কমেছে ১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা বা ১০ দশমিক ১৪ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট মুনাফা কমেছে ৫৪ লাখ টাকা বা ২৮ দশমিক ৬২ শতাংশ। চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ২৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩ টাকা ১২ পয়সা। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৫৩ টাকা ৬০ পয়সায়।
এদিকে চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির বিক্রি হয়েছে ৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৯ কোটি ১২ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৬৬ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা। সর্বশেষ দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ১০ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ৯৮ পয়সা।
সর্বশেষ ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে আরামিট লিমিটেড। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৮ টাকা ২৫ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৭ টাকা ৬৯ পয়সা। গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ১৫২ টাকা ২৮ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ১৬০ টাকা ২৭ পয়সায়।
আরামিট সিমেন্ট: চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির বিক্রি বাবদ আয় হয়েছে ৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৩৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পাটির বিক্রি বাবদ আয় কমেছে ৩৩ কোটি ২ লাখ টাকা বা ৮২ দশমিক ৮০ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট লোকসান হয়েছে ২৬ কোটি ৭ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে এ লোকসান ছিল ১৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির নিট লোকসান কমেছে ১২ কোটি ১৩ লাখ টাকা বা ৮৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৭ টাকা ৬৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪ টাকা ১১ পয়সা। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ৯৩ পয়সায়।
সর্বশেষ ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরের জন্য ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সুপারিশ করেছে আরামিট সিমেন্টের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১৬ টাকা ৮৮ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যেখানে শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছিল ৬০ পয়সা। গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ১২ টাকা ৫৮ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ২৯ টাকা ১৩ পয়সায়।










