আসন্ন ছুটির মৌসুমে কেনাকাটার চাপ সামলাতে দেড় লাখ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে অ্যামাজন। সাধারণত ছুটির কেনাকাটার আগে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুলসংখ্যক কর্মী নিয়োগ দেয় মার্কিন রিটেইল জায়ান্ট। অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করে অতিরিক্ত চাহিদা মোকাবেলার চেষ্টা করে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এবার স্থায়ী, মৌসুমি ও খণ্ডকালীন মিলিয়ে কর্মী নিয়োগ দিতে চায় অ্যামাজন। গুদামগুলোয় পণ্য বাছাই, প্যাক, সঞ্চয় ও সরবরাহ করতে এসব কর্মী নিয়োগ করা হবে। নভেম্বরের থ্যাংকস গিভিং থেকে শুরু করে ইংরেজি নববর্ষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ছুটির মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সিএনবিসির খবরে বলা হয়েছে, কঠোর শ্রমবাজারের কারণে নতুন কর্মী নিয়োগ ও পুরনো কর্মীদের ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এ অবস্থায় গত সপ্তাহে গুদাম ও সরবরাহ কর্মীদের গড় প্রারম্ভিক বেতন ১ ডলার বাড়িয়েছে অ্যামাজন। ফলে কর্মীরা গড়ে প্রতি ঘণ্টায় ১৯ ডলারের বেশি বেতন পাবেন। পাশাপাশি অঞ্চলভেদে নতুন কর্মীদের এক হাজার থেকে তিন হাজার পর্যন্ত বোনাস অফার করছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন কর্মী আকৃষ্ট করতেই এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে অ্যামাজন।

গত বছর ছুটির মৌসুমেও একই সংখ্যক কর্মী নিয়োগ দিয়েছিল সংস্থাটি। অন্যান্য খুচরা বিক্রেতাও ছুটির মৌসুমের আগেই কর্মী নিয়োগের কাজ শুরু করেছে। গত মাসের শেষদিকে এক লাখ মৌসুমি কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানায় টার্গেট। মার্কিন ডিপার্টমেন্ট স্টোর চেইনটি গত ছুটির মৌসুমের জন্যও একই সংখ্যক কর্মী নিয়োগ দিয়েছিল। নতুন মৌসুমি কর্মীদের ঘণ্টাপ্রতি ১৫-২৪ ডলারের মধ্যে বেতন দেয়া হবে। তারও আগে গত মাসে ছুটির মৌসুমের জন্য ৪০ হাজার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল ওয়ালমার্ট। মৌসুমি ও স্থায়ী সহযোগী কর্মী নিয়োগ করবে মার্কিন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানটি। চলতি বছর সংস্থাটির কর্মী নিয়োগের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম। গত ছুটির মৌসুমের জন্য সংস্থাটি ১ লাখ ৫০ হাজার কর্মী নিয়োগ দিয়েছিল।

গুরুত্বপূর্ণ কেনাকাটার মৌসুমের প্রস্তুতি হিসেবে সতর্কভাবে কর্মী বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। কারণ আসন্ন মৌসুমে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য করার পর বিক্রি কেবল ১-৩ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানগুলো চলতি বছর অতিরিক্ত মজুদ কমাতেও হিমশিম খাচ্ছে। চার দশকের সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অতিপ্রয়োজনীয় নয় এমন পণ্যে ব্যয় কমিয়ে দিয়েছেন মার্কিন ভোক্তারা। ফলে পোশাক ও গৃহস্থালি সামগ্রীর বিক্রি ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছে। অন্যদিকে বেড়ে গিয়েছে সংস্থাগুলোর মজুদের পরিমাণ। এ অবস্থায় মজুদ কমাতে মূল্যছাড় দিয়ে পণ্য বিক্রিতে বাধ্য হচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো।