চীন বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত ভোক্তা দেশ। তবে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দেশটির নির্মাণ ও উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় স্থগিত হয়ে পড়েছে। ফলে দেশটির ইস্পাত খাত পড়েছে গভীর সংকটে। উৎপাদন হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে দেশটিতে ধাতবপণ্যটির ব্যবহার ব্যাপক হারে কমতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটসের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, চলতি মাসে দেশটিতে পরিশোধিত ইস্পাতের ব্যবহার সর্বোচ্চ ৪ কোটি ৩০ লাখ টন কমতে পারে।

প্ল্যাটসের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফেব্রুয়ারিতে যদি নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার প্রশমনের পথে এগোয়, তবুও এ মাসে দেশটিতে ধাতবপণ্যটির ব্যবহার ব্যাপক মাত্রায় হ্রাস পেতে পারে। পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হলেও ২৪ ফেব্রুয়ারির আগে দেশটির নির্মাণ খাত বা কলকারখানার কার্যক্রম সচল হয়ে ওঠার তেমন সম্ভাবনা নেই। চলতি মাসে দেশটিতে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ কোটি ১০ লাখ থেকে ৪ কোটি ৩০ লাখ টন পরিশোধিত ইস্পাতের ব্যবহার কমতে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

চীনা করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে পুরো বিশ্ব। চীন ছাড়িয়ে এরই মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস। এখন পর্যন্ত চীনে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৯০০ জন ছাড়িয়েছে। বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। চীনের বিভিন্ন প্রদেশের সঙ্গে আরেক প্রদেশের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। দেশটিতে এমন সময়ে ভাইরাসটি ছড়িয়েছে, যখন চান্দ্রবর্ষের ছুটি চলছিল। সংক্রমিত ভাইরাসটির বিস্তার রোধে দেশটির সরকার ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়েছে। কোনো কোনো প্রদেশে তা ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে ইস্পাতের চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় ফেব্রুয়ারিসহ আগামী মাসে চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে ইস্পাতের সরবরাহ বেড়ে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল রাখতে দেশটির কারখানাগুলোকে ধাতবপণ্যটির উৎপাদন কমিয়ে আনা অপরিহার্য হয়ে উঠতে পারে। 

চায়না আয়রন অ্যান্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দুর্বল চাহিদার জেরে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে ইস্পাতের উদ্বৃত্ত সরবরাহ ক্রমেই বাড়ছে। ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে জানুয়ারির মধ্যে পণ্যটির উদ্বৃত্ত সরবরাহ বেড়েছে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত। ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ চীনের বাজারে ইস্পাতের উদ্বৃত্ত সরবরাহ ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৮০ হাজার টন, যা জানুয়ারিতে এসে হয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ টন।