বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে থাইল্যান্ডের সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ঋণে জর্জরিত শ্রীলংকা। দুই বছর আগে আঘাত হানা সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক সংকট থেকে পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ চুক্তি সম্পাদন করেছে ভারত মহাসাগরের দ্বীপ রাষ্ট্রটি। খবর এপি।

সম্প্রতি শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোয় দেশটির প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী স্রেথা থাভিসিন দুই দেশের পক্ষ থেকে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। শ্রীলংকা-থাইল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে পণ্য, বিনিয়োগ, শুল্ক পদ্ধতি ও মেধা সম্পত্তির মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

২০১৬ সালে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে থাইল্যান্ডের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে শ্রীলংকা। দেশটির সরকারি তথ্যানুসারে, ২০২২ সালে থাইল্যান্ডের রফতানি ২৯ কোটি ২০ লাখ ও শ্রীলংকার রফতানি ৫ কোটি ৮০ লাখ ডলারসহ দেশ দুটির দ্বিমুখী বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩৫ কোটি ডলার।

শ্রীলংকার রফতানির মধ্যে রয়েছে প্রধানত মূল্যবান পাথর, পোশাক, চা ও মসলা। আর থাইল্যান্ডের রফতানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে স্মোকড রাবার শিট, প্রাকৃতিক রাবার, প্লাস্টিক ও সিমেন্ট। বাণিজ্য চুক্তিটি দ্বিমুখী বাণিজ্যকে ১৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করবে বলে প্রত্যাশা করছে শ্রীলংকার সরকার।

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী স্রেথা থাভিসিন বলেন, ‘‌মৎস্য, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, পর্যটন ও সবুজ জ্বালানির মতো খাতগুলোয় বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।’ 

২০০৫-২২ সাল পর্যন্ত থাইল্যান্ড শ্রীলংকায় প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ করেছে ৯ কোটি ২০ লাখ ডলারেরও বেশি।

পর্যটন খাতকে আরো বেশি উৎসাহিত করতে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী ‘‌থাই এয়ারওয়েজ’ আগামী মাসে ব্যাংকক থেকে শ্রীলংকায় প্রতিদিনের ফ্লাইট আবার চালু করবে বলেও জানান থাভিসিন।

২০২২ সালের এপ্রিলে দেউলিয়া ঘোষণার পর থেকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে লড়াই করছে শ্রীলংকা। দেশটির মোট ঋণের পরিমাণ ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। মোট ঋণের প্রায় অর্ধেকের বেশি বিদেশী ঋণদাতাদের কাছ থেকে নেয়া। অর্থনৈতিক সংকট গভীর হওয়ায় দেশটির জনমনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। একপর্যায়ে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে ক্ষমতাচ্যুত হন।

গত এক বছরে বর্তমান রাষ্ট্রপতি বিক্রমাসিংহের নেতৃত্বে দেশটির খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের তীব্র ঘাটতি অনেকাংশে কমে গেছে। তবে বিদ্যুৎ বিল বাড়ার পাশাপাশি পেশাজীবী ও ব্যবসায়িকদের ওপর নতুন নতুন আয়কর আরোপের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব বাড়ানোর প্রচেষ্টা জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে।

গত মার্চে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিকে সহায়তা করার লক্ষ্যে চার বছরের বেলআউট কর্মসূচির অনুমোদন দেয় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

শ্রীলংকা বকেয়া ঋণের ১ হাজার ৭০০ কোটি ডলার পুনর্গঠন করার প্রত্যাশা করছে। এরই মধ্যে কিছু বিদেশী ঋণদাতার সঙ্গে চুক্তিতেও পৌঁছেছে দেশটি।

চুক্তিটিকে দুই দেশের মধ্যে”‘‌অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের একটি মাইলফলক’ বলে অভিহিত করেন শ্রীলংকান প্রেসিডেন্ট বিক্রমাসিংহে। তিনি বলেন, ‘‌সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে শ্রীলংকা”অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌শ্রীলংকা যেহেতু অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন শুরু করেছে, তাই আন্তর্জাতিক আস্থা আবার ফিরতে শুরু করেছে এবং বাড়ছে। আমরা এখন থাইল্যান্ডের সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছি। কারণ শ্রীলংকা এশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক রূপান্তর ও একীভূতকরণের অতি গুরুত্বপূর্ণ যাত্রা শুরু করেছে।’

বিক্রমাসিংহে জানান, সিঙ্গাপুরের পর আসিয়ান দেশের মধ্যে শ্রীলংকার এটি দ্বিতীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। শ্রীলংকা প্রতিবেশী ভারত ও চীনের সঙ্গেও বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে।