প্রতিকূল আবহাওয়া যুক্তরাষ্ট্রে কৃষিপণ্য উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে। এবার দেশটিতে ভুট্টা ও সয়াবিনের আবাদ ও শস্য সংগ্রহযোগ্য জমি কমেছে। তবে ফলন বাড়ার জেরে দেশটির সামগ্রিক উৎপাদন বাড়তে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এবার গমের আবাদ কমে ১৯০৯ সালের পর সর্বনিম্নে নেমেছে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) সর্বশেষ মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স ও এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটস।

ইউএসডিএর বৈশ্বিক কৃষিপণ্য সরবরাহ ও চাহিদা পূর্বাভাস-জানুয়ারি প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৯-২০ বিপণন বর্ষে (সেপ্টেম্বর-আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মোট ১ হাজার ৩৬৯ কোটি ২০ লাখ বুশেল (প্রতি বুশেলে ৬০ পাউন্ড) ভুট্টা উৎপাদন হতে পারে, যা প্রতিষ্ঠানটির আগের প্রতিবেদনের তুলনায় ৩ কোটি ১০ লাখ বুশেল বেশি। ডিসেম্বর প্রতিবেদনে এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৬৬ কোটি ১০ লাখ বুশেল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিপণন বর্ষে দেশটির ৮ কোটি ৯৭ লাখ একর ভুট্টার আবাদ হতে পারে। এর মধ্যে ৮ কোটি ১৫ লাখ একর থেকে পণ্যটি সংগ্রহ হতে পারে। আগের প্রতিবেদনে আবাদি ও শস্য সংগ্রহযোগ্য জমির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৯ কোটি ৯৯ লাখ ও ৯ কোটি ১৮ লাখ একর। অর্থাৎ আবাদ ও শস্য সংগ্রহযোগ্য জমি কমে এলেও ফলন বৃদ্ধির জেরে এবার দেশটিতে ভুট্টার উৎপাদন ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। এ বিপণন বর্ষে পণ্যটির একরপ্রতি ফলন হতে পারে ১৬৮ বুশেল। আগের পূর্বাভাসে এর পরিমাণ ছিল ১৬৭ বুশেল।

এদিকে চলতি বিপণন বর্ষে দেশটিতে সয়াবিনের উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ৩৫৫ কোটি ৮০ লাখ বুশেলে। কৃষিপণ্যটির একরপ্রতি ফলন হতে পারে ৪৭ দশমিক ৪ বুশেল। যা-ই হোক, এবার যুক্তরাষ্ট্রে ভুট্টা ও সয়াবিনের আবাদ আগের বছরের তুলনায় কমতির দিকে থাকবে। এদিকে ২০১৯-২০ বিপণন বর্ষে দেশটিতে শীতকালীন গমের আবাদ দাঁড়াতে পারে সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৮ লাখ ৪ হাজার একরে, যা ১৯০৯ সালের পর সর্বনিম্ন।

ইউএসডিএর এ প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে (সিবিওটি) ভুট্টা ও সয়াবিনের বাজারে দরপতন দেখা দেয়। তবে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পরের অধিবেশনেই ফের চাঙ্গা হয়ে ওঠে পণ্যগুলোর বাজার।