আন্তর্জাতিক বাজারে দুগ্ধপণ্যের দামে ধস নেমেছে। নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ গ্লোবাল ডেইরি ট্রেড অকশনে (জিডিটি) দুগ্ধপণ্যের মূল্যসূচক আগের নিলামের তুলনায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চীনের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় রফতানি বাজার হারানোর আশঙ্কা থেকে আন্তর্জাতিক নিলামে দুগ্ধপণ্যের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। গত মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে নভেল করোনাভাইরাস আতঙ্ক ছড়ানোর পর এটাই ছিল দুগ্ধপণ্যের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক নিলাম। খবর নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড ও রয়টার্স।
জিডিটি প্রাইস ইনডেক্স বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সর্বশেষ নিলামে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ৯২৫ টন দুগ্ধপণ্য সরবরাহ হয়েছিল। এর মধ্যে বিক্রি হয়েছে ২৯ হাজার ৬ টন দুগ্ধপণ্য। নিলামে প্রতি টন দুগ্ধপণ্যের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২২৬ ডলার। এর মধ্য দিয়ে সর্বশেষ জিডিটি ইনডেক্সে দুগ্ধপণ্যের গড় মূল্যসূচক আগের নিলামের তুলনায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে।
সর্বশেষ জিডিটিতে সবচেয়ে বেশি কমেছে ননিযুক্ত গুঁড়ো দুধের দাম। এ সময় দুগ্ধপণ্যটির গড় দাম দাঁড়িয়েছে টনপ্রতি ৩ হাজার ৩৯ ডলারে। আর মূল্যসূচক আগের নিলামের তুলনায় ৬ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। একইভাবে ননিবিহীন গুঁড়ো দুধের দাম আগের নিলামের তুলনায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। সর্বশেষ নিলামে দুগ্ধপণ্যটির গড় দাম দাঁড়িয়েছে টনপ্রতি ২ হাজার ৯০৭ ডলার।
তবে এ নিলামে গুঁড়ো দুধের দাম কমলেও বেড়েছে মাখন ও পনিরের। এ সময় মাখনের গড় দাম দাঁড়িয়েছে টনপ্রতি ৪ হাজার ২৫৮ ডলার। আগের নিলামের তুলনায় সর্বশেষ জিডিটিতে দুগ্ধপণ্যটির গড় দাম বেড়েছে দশমিক ২ শতাংশ। আগের নিলামের তুলনায় ৬ শতাংশ দাম বেড়েছে পনিরের। সর্বশেষ জিডিটিতে প্রতি টন পনিরের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩০২ ডলার।
এ নিলামে মাখনযুক্ত গুঁড়ো দুধ টনপ্রতি ২ হাজার ৮৮৬ ডলারে বিক্রি হয়েছে। দুগ্ধপণ্যটির গড় দাম আগের নিলামের তুলনায় ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমে গেছে। অন্যদিকে ল্যাকটোজের গড় দাম দাঁড়িয়েছে টনপ্রতি ৮৩০ ডলার, যা আগের নিলামের তুলনায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।
নিউজিল্যান্ডভিত্তিক এনজেডএক্স ডেইরির বাজার বিশ্লেষক অ্যামি ক্যাস্টলেটন বলেন, দুগ্ধপণ্যের বড় একটি বাজার চীন। দেশটি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে গুঁড়ো দুধসহ বিভিন্ন ধরনের দুগ্ধপণ্য আমদানি করে। চীনজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় দুগ্ধপণ্যের চাহিদা অনেকটাই কমে গেছে। ফলে নিউজিল্যান্ডের রফতানিকারকরা বাজার হারাতে পারেন। কমে যেতে পারে বেচাকেনা ও রফতানি। এ আশঙ্কা দুগ্ধপণ্যের আন্তর্জাতিক নিলামে দরপতন ঘটিয়েছে। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক নিলামে ননিযুক্ত ও ননিবিহীন গুঁড়ো দুধের দামে বড় পতন দেখা গেছে।
তিনি আরো বলেন, চীনসহ বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমে আসার পর দুগ্ধপণ্যের বেচাকেনা ও রফতানি বেড়ে দামও বাড়তে পারে। তখন আন্তর্জাতিক নিলামে ননিযুক্ত ও ননিবিহীন গুঁড়ো দুধের দাম বর্তমানের তুলনায় বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।









