সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে রসুন আমদানি হয়েছে ১৭ হাজার ৪০৮ টন। যার আমদানি মূল্য ২৫৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা। তবে ২০২১-২২ অর্থবছর ভোমরা বন্দর দিয়ে কোনো রসুন আমদানি হয়নি বলে জানান বন্দরসংশ্লিষ্টরা।
ভোমরা স্থলবন্দরে নিয়মিত মসলা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাফসান এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আবু হাসান জানান, বাজারে রসুনের চাহিদা ব্যাপক। তবে ভারতে সরবরাহ কম থাকায় চাহিদামতো রসুন আমদানি করতে পারছে না তার প্রতিষ্ঠান। ফলে চাহিদার তুলনায় আমদানি কম থাকায় বাজারে রসুনের দামও বাড়ছে। সপ্তাহে ১০-১২ ট্রাক রসুন আমদানি করতে পারছেন তিনি। তবে চাহিদা তার চেয়ে অন্তত তিন-চার গুণ বেশি।
এদিকে সাতক্ষীরা জেলা সদরের সুলতানপুর বড় বাজারের বিভিন্ন আড়তে গতকাল পাইকারি বিক্রি হয়েছে ১৩০-১৩৫ টাকা দরে, যা খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছে ১৪০ টাকা।
এ বাজারের পাইকারি রসুন বিপণি মেসার্স মামা-ভাগ্না ভাণ্ডারের পরিচালক মো. জহুরুল হক জানান, তুলনামূলক কিছুটা কমেছে রসুনের দাম। ১৫ দিন আগেও রসুন পাইকারি বিক্রি হয়েছে ১৪৫-১৫০ টাকা কেজি দরে, যা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৩৫ টাকায়।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় রসুন উৎপাদন হয়েছে ৩ হাজার ৩০০ টন, যা গত মৌসুমের তুলনায় ৫০০ টন কম। সূত্রটি আরো জানায়, গত মৌসুমে জেলায় ৪৪৫ হেক্টর জমিতে রসুন উৎপাদন হয়েছিল ৩ হাজার ৭০০ টন। সেখানে চলতি মৌসুমে জেলায় ৪৩৫ হেক্টর জমিতে রসুন উৎপাদন হয়েছে ৩ হাজার ৩০০। গত মৌসুমের তুলনায় চলতি মৌসুমে ৪০০ টন উৎপাদন কমেছে।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, জেলার মাটি ও আবহাওয়ার কারণে দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় সাতক্ষীরায় রসুন উৎপাদন খুব ভালো হয় না। তবে এখন বারি জাতের রসুনবীজ রোপণের কারণে আগামীতে উৎপাদন আরো বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।










