তিন বছরের মধ্যে গত মাসে প্রথমবারের মতো চীনে স্বর্ণের মজুদ বেড়েছে। ৬ ডিসেম্বর এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা পূরণ ও বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে মজুদ বাড়ানো হয়েছে।

ব্যাংকটি জানায়, গত মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন করে ৩২ টন স্বর্ণ যুক্ত হয়েছে। যার মূল্য ১৮০ কোটি ডলার। এর মধ্য দিয়ে মোট মজুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৮০ টনে। যার মূল্য ১১ হাজার ২০০ কোটি ডলার। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরের পর প্রথম মজুদ বাড়ল।

চীনে স্বর্ণের জাতীয় মজুদ বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহৎ। শীর্ষে রয়েছে রাশিয়া, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র। এসব দেশে মোট ৮ হাজার ১৩৩ দশমিক ৫ টন স্বর্ণ মজুদ রয়েছে।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল গত মাসে জানায়, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিতে বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সব মিলিয়ে ৩৯৯ টন স্বর্ণ কিনেছে। এখন পর্যন্ত চলতি বছর এটিই সর্বোচ্চ ক্রয়।

কাউন্সিল জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যেসব স্বর্ণ ক্রয় করেছে, সেগুলোর কোনো ঘোষণা দেয়া হয়নি। এ থেকে অনুমান করা যায়, রাশিয়া ও চীনের মতো দেশগুলো বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বর্ণের মজুদ বাড়াচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণের ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা ধাতুটির স্থানীয় চাহিদা ও দামকে স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বর্তমানে ধাতুটির দাম আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৭৭৫ ডলারে অবস্থান করছে।

প্রসঙ্গত, ফিউচার মার্কেটে নিম্নমুখী প্রবণতা ও এক্সচেঞ্জগুলোর মাধ্যমে লেনদেন হওয়া পণ্যের বহিঃপ্রবাহ সত্ত্বেও এ বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের চাহিদা বেড়েছে। এর মধ্য দিয়ে চাহিদা মহামারীপূর্ব অবস্থায় ফিরে গিয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল।

প্রান্তিকভিত্তিক চাহিদা প্রতিবেদনে কাউন্সিল জানায়, জুলাই-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে মূল্যবান ধাতুটির বৈশ্বিক চাহিদা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮১ টনে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এর হার ২৮ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে এ বছরের প্রথম নয় মাসে চাহিদা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে। ব্যবহারকারী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ঊর্ধ্বমুখী ক্রয় চাহিদা বাড়াতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের বিনিয়োগ গবেষণা বিভাগের পরিচালক জন কার্লোস আর্টিগ্যাস বলেন, বিশ্বজুড়ে স্বর্ণের ব্যবহার বেড়ে মহামারীপূর্ব অবস্থায় ফিরেছে। স্বর্ণালঙ্কারের চাহিদা বৃদ্ধি, বার ও কয়েনের ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর অব্যাহত স্বর্ণ ক্রয় চাহিদা প্রবৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা রেখেছে।