পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সোনালী আঁশ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চলতি ২০২২-২৩ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) আগের হিসাব বছরের একই সময়ের তুলনায় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে প্রকাশিত কোম্পানিটির সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। 

প্রতিবেদন অনুসারে, চলিত হিসাব বচরের প্রথমার্ধে সোনালী আঁশ ইন্ডাস্ট্রিজের ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ টাকা ২৭ পয়সা। আলোচ্য সময়ের ব্যবধানে কাম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে ৭৬ পয়সা বা ৫৯ দশমকি ৮৪ শতাংশ। আর সর্বশেষ দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ১৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৮৩ পয়সা। মূলত পণ্যের বিক্রয়মূল্য আগের সময়ের তুলনায় আলোচ্য সময়ে বেশি হওয়ায় কোম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২৩০ টাকা ৬১ পয়সায়। 

সর্বশেষ ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২১-২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশের সুপারিশ করেছে সোনালী আঁশের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে বড় এ স্টক লভ্যাংশ বিতরণের কারণ হিসেবে কোম্পানিটি জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুসারে তারা পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ স্টক লভ্যাংশ কোম্পানিটির সংরক্ষিত আয় থেকে ঘোষণা করা হয়েছে। লভ্যাংশ ঘোষণার পরও কোম্পানিটির সংরক্ষিত আয় ইতিবাচক থাকবে। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ৯২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ১৩ পয়সা। গত বছরের ৩০ জুন শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২২৮ টাকা ৫৮ পয়সায়, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ২২৫ টাকা ৬৫ পয়সায়। 

৩০ জুন সমাপ্ত ২০২০-২১ হিসাব বছরের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে সোনালী আঁশ ইন্ডাস্ট্রিজ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস ছিল ১ টাকা ১৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৬২ পয়সা। ২০১৯-২০ হিসাব বছরেও শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। ২০১০-২২ হিসাব বছর থেকে প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে সোনালী আঁশ। ২০০৯-১০ হিসাব বছরে কোম্পানিটি মোট ২৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে। এর মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ছিল। 

ডিএসইতে গতকাল সোনালী আঁশের শেয়ারের সর্বশেষ ও সমাপনী দর ছিল ৪২৭ টাকা ৭০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর ছিল যথাক্রমে ৩৮০ টাকা ৮০ ও ৯৬১ টাকা ৪০ পয়সা।