জাপানে ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষে চকোলেট কেনার পরিমাণ বাড়বে বলে জানিয়েছে টোকিওভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টেজ। এক জরিপে দেখা যাচ্ছে, এবার নারীদের মাঝে চকোলেট কেনার বাজেট গড়ে ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। করোনা-পরবর্তী সময়ে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও খরচ বিক্রি সত্ত্বেও এ খাতে বেড়েছে পরিকল্পিত ব্যয়। খবর জাপান টাইমস।
গত মাসে জাপানের ১৫-৭৯ বছর বয়সী আড়াই হাজার নারী-পুরুষের ওপর এ জরিপ পরিচালিত হয়। সেখানে চকোলেট শিল্পের জন্য ইতিবাচক চিত্র উঠে আসে। জরিপের ফলাফলে শীর্ষে রয়েছে পরিবারের জন্য চকোলেট কেনার পরিকল্পনা। যার হার ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ। তবে গত বছরের তুলনায় প্রেমিক বা প্রেমিকার জন্য চকোলেট কেনার পরিকল্পনায় কাটছাঁট বেড়েছে। ৬ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, প্রেমিক বা প্রেমিকার জন্য চকোলেট কিনবেন তারা।
জরিপের ফলাফলে আরো দেখা যায়, ২১ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ নিজের জন্য চকোলেট কেনার পরিকল্পনা করেছেন। যারা সঙ্গীদের জন্য চকোলেট কিনবেন তার চেয়ে এ হার ৩ দশমিক ৪ গুণ বেশি। আর বন্ধুদের জন্য উপহার হিসেবে চকোলেট বেছে নেবেন ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ। এর মাধ্যমে জাপানের সামাজিক জীবনের পরিবর্তনও উঠে এসেছে।
জাপানে কয়েক বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ওশি-চকো’র ধারণা বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। জাপানের এ চলমান ট্রেন্ডের বাংলা করলে দাঁড়ায়, ‘প্রিয় কারো জন্য চকোলেট’। এ প্রবণতা অনুযায়ী লোকেরা তাদের ওশি বা প্রিয় চরিত্রের ছবি বা মডেলের পারপাশে চকোলেট দিয়ে ঘিরে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। পাশাপাশি একই চরিত্রের অনুরাগীরা পরস্পরকে চকোলেট উপহার দেন। ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের ওশি রয়েছে। তবে মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ এ বাবদ খরচের পরিকল্পনা করেছেন।
তবে এ জরিপ অনুযায়ী কর্মজীবী নারীদের মধ্যে গিরি-চকো ঐতিহ্যের প্রতি অনীহা দেখতে পাওয়া গেছে। গিরি-চকো হলো পুরুষ সহকর্মীদের বাধ্যতামূলক চকোলেট উপহার দেয়ার প্রথা। প্রায় ৮২ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতারা জানিয়েছে, এ আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে তাদের কোনো আগ্রহ নেই।










