দিনাজপুরের হিলিতে দুদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ১০ টাকা। এর পেছনে ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়াই প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে সম্প্রতি পণ্যটির দাম ওঠানামা করছে। ফলে লোকসানে পড়তে হচ্ছে বলেও দাবি তাদের।
সরজমিন হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দুদিন আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজ পাইকারিতে ৫৫ আর খুচরায় ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে পাইকারিতে ৪৫ আর খুচরায় ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা আবুল হাসনাত মান্না বলেন, ‘মোকামে পেঁয়াজের বাজার প্রায়ই ওঠানামা করছে। কখনো বাড়ছে তো কখনো কমছে। দুই-তিনদিন আগে মোকামে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৪ হাজার টাকার বেশি দামে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ১ হাজার ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় নেমেছে। দুদিনের ব্যবধানে মণপ্রতি ২ হাজার টাকার বেশি দাম কমেছে। দাম ওঠানামা করায় লোকসানে পড়তে হচ্ছে আমাদের।
প্রসঙ্গত, নিজেদের বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে গত বছরের ডিসেম্বরে পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ভারত। পরে এ নিষেধাজ্ঞা চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। তবে সে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দেশটি বাংলাদেশসহ আরো পাঁচটি দেশে সীমিত আকারে পেঁয়াজ রফতানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই দেশের বাজারে কমতে শুরু করে পেঁয়াজের দাম।
দেশে পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় ৩০ লাখ টন। সর্বশেষ অর্থবছরে ৩৪ লাখ টনের বেশি উৎপাদন হয়। তবে মাঠ পর্যায় থেকে ভোক্তা পর্যন্ত যেতে এক-চতুর্থাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয় কিংবা শুকিয়ে কমে যায়। গত বছরের মার্চে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। তবে এপ্রিলের মাঝামাঝি নিত্যপণ্যটির দাম বাড়তে শুরু করে। জুনের শুরুতে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম প্রায় ১০০ টাকায় ঠেকলে আমদানির অনুমতি দেয় কৃষি মন্ত্রণালয়।









