বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত শস্যের মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চাল। খাদ্যপণ্যটির উৎপাদনে এশিয়ার দেশগুলোর জয়জয়কার। তবে এশিয়ার পাশাপাশি আফ্রিকার দেশগুলোতেও চালের ব্যবহার বেশি হয়। চাল রফতানিতে এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে শীর্ষ তালিকায় উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি দেশ রয়েছে। তবে খাদ্যপণ্যটির আমদানিতে আফ্রিকার প্রাধান্য বেশি। গত বছর বিশ্বজুড়ে চালের শীর্ষ ১০ উৎপাদনকারী, রফতানি ও আমদানিকারক দেশ নিয়ে এবারের ধারাবাহিক আয়োজন—

ভারত

 বিশ্বের শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশ ভারত। পরপর দুই বছরের মন্দা ভাবের ধারাবাহিকতায় গত বছর দেশটি থেকে খাদ্যপণ্যটির রফতানি আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। এ সময় ভারত থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ১ কোটি ১ লাখ টন চাল রফতানি হয়েছে। এর আগের বছর ভারত থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ২০১৭ সালের তুলনায় ১৩ দশমিক ৪৬ শতাংশ কমে ১ কোটি ৪ লাখ ২০ হাজার টন চাল রফতানি হয়েছিল। ভারতের ইতিহাসে ২০১৪ সালে সবচেয়ে বেশি চাল রফতানির রেকর্ড হয়েছিল। ওই বছর দেশটি থেকে মোট ১ কোটি ২২ লাখ ৩৮ হাজার টন চাল রফতানি হয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি। ২০১১ সালের পর থেকে প্রতি বছরই ভারত এক কোটি টনের বেশি চাল রফতানি করে আসছে।


 থাইল্যান্ড

 টানা তিন বছরের মন্দা ভাব বজায় থাকার ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশ থাইল্যান্ড থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যটির সম্মিলিত রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭০ লাখ টনে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম। ২০১৮ সালে দেশটি থেকে সব মিলিয়ে ৭৫ লাখ ৬২ হাজার টন চাল রফতানি হয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ৩১ দশমিক ৬০ শতাংশ কম। দেশটির ইতিহাসে ২০১৬ সালে সবচেয়ে বেশি চাল রফতানি হয়েছিল। ওই বছর থাইল্যান্ড থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ১ কোটি ১৬ লাখ ১৫ হাজার টন চাল রফতানি হয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ১৭ দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি। এর পর থেকে দেশটির চাল রফতানিতে টানা মন্দা ভাব বজায় রয়েছে।

 ভিয়েতনাম

 আগের বছরের মন্দা ভাব কাটিয়ে ২০১৯ সালে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে ভিয়েতনাম। গত বছর দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৬৭ লাখ টন চাল রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৮১ শতাংশ বেশি। এর আগের বছর ভিয়েতনাম থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ২০১৭ সালের তুলনায় দশমিক ১৪ শতাংশ কমে ৬৫ লাখ ৮১ হাজার টন চাল রফতানি হয়েছিল। ভিয়েতনামের ইতিহাসে ২০১১ সালে সবচেয়ে বেশি চাল রফতানি হয়েছিল। ওই বছর দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৭৭ লাখ ১৭ হাজার টন চাল রফতানি হয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি।


পাকিস্তান

 ২০১৮ সালে পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৪৪ লাখ ৯৩ হাজার টন চাল রফতানি হয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ১২ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। গত বছর দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যটির সম্মিলিত রফতানির পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ কমে ৪৪ লাখ টনে নেমে এসেছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশটি থেকে চাল রফতানি কমেছে ৯৩ হাজার টন। এর পরও ২০১৯ সালে পাকিস্তান বিশ্বের চতুর্থ শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে।


 যুক্তরাষ্ট্র

 বিশ্বের পঞ্চম শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশ যুক্তরাষ্ট্র। উত্তর আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বেশি চাল রফতানি করে। গত বছর দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৩০ লাখ ৪৮ হাজার টন চাল রফতানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেশি। এর আগের বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ২০১৭ সালের তুলনায় ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে ২৯ লাখ ৭১ হাজার টন চাল রফতানি হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ২০০২ সালে সবচেয়ে বেশি চাল রফতানি হয়েছিল। ওই বছর দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৩৮ লাখ ৬০ হাজার টন চাল রফতানি হয়েছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ৩০ দশমিক ৬৭ শতাংশ বেশি।

(চলবে)

 

ইউএসডিএ ও এগ্রিমানি