কর্মী ছাঁটাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের হোটেল চেইন ওয়ো রুমস। সংস্থাটি ওয়ো হোটেলস অ্যান্ড হোমস নামেও পরিচিত। গতকাল শনিবার প্রতিষ্ঠানটি করপোরেট ও প্রযুক্তি বিভাগের ৬০০ কর্মীকে অব্যাহতি দেয়ার ঘোষণা দেয়।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, কয়েক বছর ধরে ব্যবসায়ে লোকসান গুনছে ওয়ো রুমস। সংস্থাটির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী জাপানি কনগ্লোমারেট সফটব্যাংক। বিনিয়োগকারীদের চাপে লোকসান কাটিয়ে উঠতে ব্যবসা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

একটি বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ওয়ো রুমস ৩ হাজার ৭০০ কর্মী বাহিনীর ১০ শতাংশ কমিয়ে দেবে। একই সময়ে সংস্থাটি ২৫০ জনকে নিয়োগ দেবে। পণ্য ও প্রকৌশল দলকে একত্র করে আরো বিস্তৃত কাজের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দলটির আকার কিছুটা ছোট করে আনা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী রিতেশ আগারওয়াল বলেন, ‘এটা দুর্ভাগ্যজনক যে আমাদের কিছু প্রতিভাবান ব্যক্তিকে অব্যাহতি দিতে হচ্ছে। তারা প্রতিষ্ঠানে মূল্যবান অবদান রেখেছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওয়ো রুমস কার্যক্রম বিস্তৃত করতে প্রয়োজন দেখা দিলে আমরা আবারো তাদের সুযোগ দিতে চাই। তাছাড়া তাদের ভালো চাকরি নিশ্চিত করতে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব।’

২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ওয়ো হোটেলস ২০২১ সালের অক্টোবরে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির আবেদন করেছিল। কিন্তু বাজার পরিস্থিতির কথা বলে সংস্থাটি শেয়ার লেনদেন বিলম্বিত করেছে। আগামী বছরের শুরুতে সংস্থাটি পুঁজিবাজারে শেয়ার লেনদেন শুরু করতে চায়।

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সংস্থাটি ৩৩৩ কোটি রুপি (৪ কোটি ৯ লাখ ডলার) নিট লোকসান গুনেছে। যেখানে দ্বিতীয় প্রান্তিকে লোকসানের পরিমাণ ছিল ৪১৪ কোটি রুপি।

স্টার্টআপগুলোর কর্মী ছাঁটাই ভারতে কেন্দ্রীয় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা, তহবিলের স্বল্পতা এবং ব্যয় সংকোচনের উদ্যোগ নেয়ায় স্টার্টআপগুলো থেকে কর্মীরা চাকরি হারাচ্ছেন। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রযুক্তি স্টার্টআপগুলোয় কর্মী ছাঁটাই সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গত মাসে সফটব্যাংক সমর্থিত আনএকাডেমি ৩৫০ জন কর্মী ছাঁটাই করে। সে সময় প্রতিষ্ঠানটির প্রতিদ্বন্দ্বী বাইজুস ৫০ হাজার জনবলের মধ্যে আড়াই হাজার ছাঁটাই শুরু করেছিল। এর আগে বিটুবি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান জোমাটো ৩ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করেছে।